Showing posts with label টার্কি পালন. Show all posts
Showing posts with label টার্কি পালন. Show all posts

Thursday, 9 August 2018

ইনকিউবেটরে ডিমের ভিতর বাচ্চা মৃত্যুর কারন এবং সেই সমস্যা সমাধানের কিছু উপায়

ইনকিউবেটরে ডিমের ভিতর বাচ্চা মৃত্যুর কারন এবং সেই সমস্যা সমাধানের কিছু উপায় নিয়ে আজকের পোষ্ট টি লিখলাম।
অনেক খামারী ভাইয়েরা এই বিষয়টি নিয়ে খুব চিন্তিত, যাদের ইনকিউবেটর রয়েছে তারা সবাই এই সমস্যার সম্মক্ষীন হয়ে থাকে, অনেক খামারি ভাইদের অনুরোধে এই সমস্যার সামাধান নিয়ে কিছু লিখলাম।
ইনকিউবেটরে ডিমের ভিতর বাচ্চা বড় হয়েও বের হতে পারেনা, ডিমের ভিতর বাচ্চার মৃত্যুর অনেক কারনই থাকতে পারে, তবে যে কারনে বেশির ভাগ বাচ্চার মৃত্যু হয়, সেই কারন এবং সেই বিষয় গুলোর সমাধান গুলো আমরা জানবো।

প্রথম কারনঃ-ব্যক্টেরিয়া।
যে বিষয়টি বেশির ভাগ ইনকিউবেটর চালকেরা গুরুত্ব দেয়না সেটা হচ্ছে ব্যাক্টেরিয়া বা জিবানু, ইনকিউবেটরের ভিতর যদি নষ্ট ডিম রাখা হয় তবে সেই নষ্ট ডিম ভিতরে জন্ম নেয়া ব্যাক্টেরিয়া গুলো সুস্থ ডিমের ভ্রুনকে আক্রান্ত করে এবং সুস্থ ভ্রুনের মৃত্যুর কারন হতে পারে।
*এই সমস্যার সমাধানঃ-
ইনকিউবেটরককে জিবানু মুক্ত রাখতে ইনকিউবেটরে ব্যবহার উপযোগী জিবানু নাশক ব্যবহার করা হয়, তবে সেগুলো বেশ ঝুঁকিপূর্ণ এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ইনকিউবেটরে ডিম দেবার আগে ডিমকে জিবানু মুক্ত করা হয়, কিন্তু যে ডিম গুলোতে ভ্রুন থাকেনা বা যে ডিম গুলোর ভ্রুনের কোনো কারনে মৃত্যু হয় সেই ডিম গুলোর ভিতর পুণরায় ব্যাক্টেরিয়া জন্মাতে পারে।
*এক্ষেত্রে করনীয়ঃ- ডিম ক্যান্ডালিং করার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে নষ্ট ডিম গুলোকে বাছাই করে সেগুলো ইনকিউবেটরের ভিতর থেকে সরিয়ে ফেলা।
নষ্ট ডিম ইনকিউবেটর থেকে সরিয়ে ফেললে, ডিমের ভিতর বাচ্চা মৃত্যুর হার অনেক কমে যাবে, এবং তুলনামূলকভাবে হেচিংরেট বৃদ্ধি পাবে।
দ্বিতীয় কারনঃ-
সঠিক আদ্রতার চেয়ে কম অথবা বেশি আদ্রতা।
আদ্রতা যদি প্রথমে বেশি থাকে,তাহলে হেচিংএর আগেই ডিমের ভিতর বাচ্চার মৃত্যু হতে পারে, অথবা খুব দুর্বল বাচ্চা জন্ম হতে পারে, সেই কারনে হেচার অপেক্ষা সেটারে আদ্রতা কম রাখতে হয়।
আবার হেচারে যদি আদ্রতা কম থাকে তবে ডিমের ভিতর বাচ্চা শুকিয়ে যায় এবং বের হতে পারেনা।
সেই কারনে সেটার এবং হেচারের জন্য আলাদা আদর্শ আদ্রতা রয়েছে।
এই সমস্যার সমাধানঃ-
ডিমের ভিতরে তরল সঠিকভাবে শুকিয়ে, সঠিক সময়ে বাচ্চা বের করতে সঠিক আদ্রতা অনেক বড় ভুমিকা পালন করে।
সেই কারনে আদ্রতা সঠিক রাখার উপর নির্ভর করে ডিম থেকে সঠিক সময় খুব সহজে সুস্থ বাচ্চা বের হওয়া।
প্রথম থেকে হেচিংএর আগে পর্যন্ত সেটারের আদর্শ আদ্রতা হচ্ছে, ৪৫%থেকে ৫৫%এই আদ্রতায় বেশিরভাগ ডিম সঠিক পরিমানে শুকায়।
এবং হেচিংএর সময় ৬৫%এর উপরে আদ্রতা রাখা জরুরী, মনে রাখতে হবে হেচিংএর সময় আদ্রতা কম রাখার কোনো প্রয়োজন পড়েনা, তাই ৮০%-৮৫%রাখলেও সমস্যা নেই।
আদ্রতা সঠিক রাখতে পারলে হেচিংরেট অনেক বৃদ্ধি পাবে,মেনুয়েল আদ্রতা নিয়ন্ত্রিত ইনকিউবেটরে আদ্রতা নিয়ন্ত্রন যদি কঠিন হয় তবে যতটা সম্ভব সঠিক আদ্রতার কাছাকাছি আদ্রতা বজায় রাখতে হবে, তাহলে এই সমস্য অনেকটাই কমবে।
তৃতীয় কারনঃ-
সঠিক তাপমাত্রার চেয়ে কম তাপমাত্রা অথবা সঠিক তাপমাত্রার চেয়ে বেশি তাপমাত্রা।
সঠিক তাপমাত্রার চেয়ে কম তাপমাত্রা থাকলে বাচ্চা দেরিতে ফুটে এবং ডিমের ভিতর বাচ্চার মৃত্যুর সম্ভবনা বেশি থাকে।
সঠিক তাপমাত্রার চেয়ে যদি বেশি তাপমাত্রা থাকে তাতেও ডিমের ভিতর বাচ্চার মৃত্যুর সম্ভবনা থাকে।
*এই সমস্যা সমাধানের উপায়ঃ- সেটারের জন্য সঠিক তাপমাত্রা হচ্ছে ৩৭.৭এবং হেচারে তাপমাত্রা কিছুটা কম রাখতে হয় সেক্ষেত্রে হেচারে ৩৭.৪/৩৭.৫ডিঃসেঃ তাপমাত্রা ভালো, তবে হেচিংএর সময় সর্বদা লক্ষ রাখতে হবে কোনো ভাবেই যেনো অতিরিক্ত তাপমাত্রা না হয়।
তাপমাত্রা সঠিক রাখার পাশাপাশি খোয়াল রাখতে হবে যেনো সব ডিমে সমান তাপমাত্রা থাকে, তাহলে ডিমের ভিতরে বাচ্চা মৃত্যুর হার কমে আসবে।
চতুর্থ সমস্যাঃ-
পর্যাপ্ত অক্সিজেনের অভাব।
হেচিং এর সময় ডিমের ভিতর বাচ্চা বড় হয়ে যায়, তাই সেটারের তুলনায় হেচারে বাতাস প্রবাহ এবং অক্সিজেনের পরিমান বেশি রাখতে হয়, অক্সিজেন কম থাকলে ডিমের ভিতরে বাচ্চার মৃত্যু হতে পারে এবং ডিমের ভিতর থেকে দুর্বল বাচ্চা জন্ম হতে পারে।
এই সমস্যার সমাধানঃ- কার্বনডাইঅক্সাইড কন্ট্রোলার অথবা ছোট্ট একটা টাইমার ব্যবহার করা যেতে পারে, যে টাইমারের কাজ হাচ্ছে ১ঘন্টা বা ২ঘন্টা পর পর ৩/৪মিনিটের জন্য একটা কুলিং ফ্যন চালু করবে ঐ ফ্যনটা ইনকিউবেটরের ভিতর থেকে বাতাস বের করে দেবে, এতে বাহির থেকে বিশুদ্ধ অক্সিজেন ইনকিউবেটরের ভিতরে প্রবেশ করবে।
( ভিতরের বাতাস বাহিরে বের করে দিলে আদ্রতা কিছুটা কমতে পারে কিন্তু ফ্যনটা অল্প সময় চলবে তাই সেই আদ্রতা তেমন সমস্যা করবে না, তবুও যদি আদ্রতা কমে যায় তবে ইনকিউবেটর ভিতরে যে স্থান দিয়ে বাতাস প্রবেশ করে সেখানে একটা ভিজা কাপড় শুকাতে দিবেন এতে করে আদ্র বাতাস ভিতরে ঢুকবে।, ইনকিউবেটরের ধারন ক্ষমতার উপর ফ্যনের সাইজ নির্ভর করবে)
পঞ্চম কারনঃ-
সঠিক আদ্রতা, সঠিক তাপমাত্রা এবং পর্যাপ্ত অক্সিজেন সকল ডিমে সমান ভাবে না পৌঁছানো।
সঠিক যত্নের কারনে একটি ডিম থেকে যেমন সুস্থ বাচ্চা বের হয় তেমনি, সঠিক যত্নের অভাবে কোনো ডিমের ভিতরে বাচ্চা মারা যেতে পারে,
তাই সব ডিমে সঠিক যত্ন নিশ্চিত করতে সকল ডিমে সমান আদ্রতা, সমান তাপমাত্রা এবং পর্যাপ্ত অক্সিজেন পৌঁছানো নিশ্চিত করতে হবে।
এই সমস্যার সমাধানঃ-
এক্ষেত্রে ইনকিউবেটরে যে স্থান গুলোতে আদ্রতা এবং তাপমাত্রা বেশি সেই স্থানে কুলিং ফ্যন লাগাতে হবে এবং যেদিকে তাপমাত্রা, আদ্রতা কম সেই দিকে ফ্যনের বাতাস প্রবাহিত করতে হবে, তাহলে সব ডিমে অনেকটা সঠিক যত্ন নিশ্চিত রাখা হবে।
উক্ত নিয়ম মেনে ডিম ফুটালে ডিমের ভিতর বাচ্চা মৃত্যুর হার অনেকটাই কমে আসবে।
এখনে ডিমের ভিতরে বাচ্চা মারা যাবার যতগুলো কারন আছে তার মধ্যে অন্যতম করন হচ্ছে হেচিংএর সময়ে ওভার ট্যম্পারেচার বা অতিরিক্ত তাপমাত্রা,এবং হেচিংএর সময় কম আদ্রতা থাকা, তাই ইনকিউবেটর অবশ্যই ওভার ট্যম্পারেচার কন্ট্রোল সিষ্টেম রাখতে হবে এবং হেচিংএর সময় আদ্রতা বাড়াতে হবে।
খামারি ভাইয়েরা ইনকিউবেটরের যে কোনো সমস্যার ব্যপার আমাকে জিজ্ঞাসা করতে পারেন, আমি আমার সাধ্যমত মত চেষ্টা করবো সমস্যা সমাধানের পরামর্শ দেবার।


তথ্যসূত্র : BD টার্কি খামার

Sunday, 4 February 2018

টার্কি পালন-টার্কি সম্পর্কে গুরত্বপূর্ণ তথ্য / টার্কি পলনের A to Z

পলনের A to Z




টার্কির (Turkey) প্রজাতিগুলি:

১) ব্রড ব্রেস্টেড ব্রোঞ্জ

পালকের মূল রং কালো, তামাটে নয়৷ মাদী পাখির বুকের পালকের রং কালো, ও তার ডগাগুলি সাদা হয়, যার দরুন মাত্র ১২ সপ্তাহ বয়সেই লিঙ্গ নির্ধারণ করা যায়৷

২) ব্রড ব্রেস্টেড হোয়াইট:

এটি ব্রড ব্রেস্টেড ব্রোঞ্জ ও হোয়াইট হল্যাণ্ডের সংকর যার পালকগুলি সাদা হয়৷ সাদা পালকের টার্কির গরম সহ্য করার ক্ষমতা বেশি ও সেই সঙ্গে পালক ছাড়ানোর পরে এদের পরিষ্কার ও ভাল দেখায়৷

৩) বেল্টসভিল স্মল হোয়াইট:

এটি রং ও আকারে ব্রড ব্রেস্টেড হোয়াইট প্রজাতির খুবই কাছাকাছি তবে আয়তনে ছোট৷ ভারী প্রজাতিগুলির তুলনায় এদের ডিম দেওয়া, উর্বরতা ও ডিম ফোটার পরিমাণ বেশী হয় এবং ডিমে তা দেওয়ার ঝোঁক কম হয়৷

৪) নন্দনম টার্কি 

নন্দনম টার্কি – প্রজাতিটি কালো দেশী প্রজাতি ও বিদেশী বেল্টসভিল স্মল হোয়াইট প্রজাতির শংকর৷

টার্কির (Turkey) খাবার দেওয়ার পদ্ধতিগুলি :

  1. মুরগীর তুলনায় টার্কির শক্তি, প্রোটিন ও খনিজের প্রয়োজন বেশি৷
  2. যেহেতু পুরুষ ও মাদীর ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় শক্তির(এনার্জি) পরিমাণ আলাদা, তাই ভাল ফল পাওয়ার জন্য তাদের পৃথক ভাবে পালন করতে হবে৷
  3. খাবার ফীডারে দিতে হবে, মাটিতে নয়৷
  4. যখনই এক রকম খাবার থেকে অন্য খাবারে পরিবর্তন করা হবে তা যেন আস্তে আস্তে করা হয়৷
  5. টার্কিদের সব সময় অবিরাম পরিষ্কার জলের জোগান দরকার হয়৷
  6. গ্রীষ্মকালে আরও বেশী সংখ্যায় ওয়াটারার রাখুন৷
  7. গ্রীষ্মকালে দিনের অপেক্ষাকৃত ঠাণ্ডা সময়ে টার্কিদের খাবার দিন৷
  8. পায়ের দুর্বলতা এড়াতে দিনে 30-40 গ্রা. হারে ঝিনুকের খোলার গুঁড়ো দিন ৷

সবুজ খাদ্য:

নিবিড় পদ্ধতিতে, ড্রাই ম্যাশ হিসাবে মোট খাদ্যের 50% পর্যন্ত সবুজ খাবার দেওয়া যায়৷ সব বয়সের টার্কির জন্য টাটকা লুসার্ন প্রথম শ্রেণীর সবুজ খাদ্য৷ এছাড়া খাবারের খরচ কম করার জন্য ডেসম্যান্থাস ও স্টাইলো কুচি করে টার্কিদের খাওয়ান যেতে পারে৷
.........................................................................................................

মাংস উৎপাদনের জন্য টার্কির সাতটি আদর্শ জাত রয়েছে। পাখিজাতীয় মাংস উৎসের মধ্যে মুরগি, হাঁস, তিতির, কোয়েলের পর টার্কি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। টার্কির মাংস অন্যান্য পাখির মাংস থেকে কম চর্বিযুক্ত, তাই অন্যান্য পাখির চেয়ে টার্কির মাংস অধিক পুষ্টিকর।পশ্চিমা দেশগুলোতে টার্কি অধিক জনপ্রিয়। সবচেয়ে বেশি টার্কি পালন করা হয় যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি, নেদারল্যান্ডস, যুক্তরাজ্যসহ প্রভৃতি দেশে। আমাদের দেশের অনুকূল আবহাওয়া ও পরিবেশে যে কোন পশু পাখি পালন অন্য দেশের তুলনায় সহজ , আবার কিছু প্রাণী আছে যারা দ্রুত পরিবেশের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারে , আর টার্কি পাখি সে রকম একটি সহনশীল জাত , যে কোন পরিবেশ দ্রুত সে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারে।

টার্কির বাচ্চা পালন :-

টার্কির ০-৪ সপ্তাহ বয়সকে ব্রীডিং পিরিয়ড বলা হয়৷ তবে শীতকালে ব্রীডিং পিরিয়ড বাড়িয়ে ৫-৬ সপ্তাহ করা হয়ে থাকে৷ সাধারণভাবে মুরগীর তুলনায় টার্কির দ্বিগুণ হোভারের জায়গা লাগে৷ এক দিন বয়সের শাবকদের ব্রুডিঙের জন্য অবলোহিত আলোর বাল্ব বা গ্যাস ব্রুডার ও চিরাচরিত ব্রীডিং ব্যবস্থা ব্যবহার করা যায়৷

  1. ০-৪ সপ্তাহের জন্য প্রয়োজনীয় জায়গার মাপ পাখী প্রতি ১.৫ ব.ফু.৷
  2. শাবক এসে পৌঁছোনোর অন্তত দু দিন আগে ব্রীডার হাউস তৈরী রাখতে হবে
  3. ২ মিটার ব্যাস জুড়ে গোলাকারে লিটার বিছিয়ে রাখতে হবে৷
  4. শাবকরা যাতে তাপের উত্স থেকে দূরে চলে না যায় তাই অন্তত ১ ফুট উচ্চতার একটি বেড়া রাখতে হবে
  5. প্রারম্ভিক তাপমাত্রা ৯৫০ফা. রাখতে হবে যা প্রতি সপ্তাহে ৫০ ফা. করে কমাতে হবে যতদিন না শাবকদের বয়স ৪ সপ্তাহ হয়
  6. অগভীর জলপাত্র ব্যবহার করতে হবে৷

প্রথম চার সপ্তাহে গড় মৃত্যুহার থাকে ৬-১০% ৷ শাবকরা স্বভাবতঃই জন্মের পরে প্রথম কয়েকদিন কিছু খেতে বা পান করতে চায় না, মূলতঃ খারাপ দৃষ্টিশক্তি ও ভয় পাওয়ার কারণে৷ এইজন্য, তাদের জোর করে খাওয়াতে হয়৷

জোর করে খাওয়ান:

শাবকদের অল্প দিনের মধ্যে মৃত্যুর একটি প্রধান কারণ অভুক্ত থাকা৷ তাই খাদ্য ও জল সরবরাহের প্রতি বিশেষ যত্ন নিতে হবে৷ জোর করে খাওয়ানর ক্ষেত্রে প্রতি লিটার জলে ১০০ মিলি হারে দুধ মিশিয়ে খাওয়াতে হবে এবং পনেরো দিন পর্যন্ত প্রতি ১০টি শাবকের জন্য একটি ডিম সিদ্ধ দিতে হবে৷ এটি শাবকদের প্রোটিন ও এনার্জির প্রয়োজন মেটাবে৷
খাবারের পাত্রটিকে আলতো করে আঙুল দিয়ে ঠুকে শাবকদের খাবারের দিকে আকৃষ্ট করা যেতে পারে৷ ফীডার এবং ওয়াটারারে রঙিন মার্বেল বা নুড়িপাথর রাখলেও শাবকেরা সেদিকে আকর্ষিত হবে৷ যেহেতু টার্কিরা সবুজ শাকপাতা ভালবাসে, তাই খাদ্যগ্রহণের পরিমাণ বাড়ানোর উদ্দেশ্যে কিছু কুচোন সবুজ পাতাও খাবারে মেশাতে হবে৷ এই সঙ্গে প্রথম ২ দিন রঙীন ডিমের পাত্রকেও ফীডার হিসাবে ব্যবহার করা যেতে পারে৷
আমাদের কাছে বর্তমানে ১ মাস থেকে শুরু করে ৩/৪ মাস বয়সের টার্কি সাদা ও কালো রংয়ের উন্নতজাতের টার্কি পাওয়া যাচ্ছে....
রানিং পেয়ার টার্কি নব্য এডাল্ট টার্কি পাওয়া যাচ্ছে.....

টার্কি পালনের সুবিধাসমুহ ---


  1. মাংস উৎপাদন ক্ষমতা ব্যাপক ।
  2. এটা ঝামেলাহীন ভাবে দেশী মুরগীর মত পালন করা যায় ।
  3. টার্কি ব্রয়লার মুরগীর চেয়ে দ্রুত বাড়ে ।
  4. টার্কি পালনে তুলনামূলক খরচ অনেক কম, কারন এরা দানাদার খাদ্যের পাশাপাশি ঘাস,লতাপাতা খেতেও পছন্দ করে ।
  5. টার্কি দেখতে সুন্দর, তাই বাড়ির শোভা বর্ধন করে ।
  6. টার্কির মাংসে প্রোটিনের পরিমাণ বেশী, চর্বি কম । তাই গরু কিংবা খাসীর মাংসের বিকল্প হতে পারে ।
  7. টার্কির মাংসে অধিক পরিমাণ জিংক, লৌহ, পটাশিয়াম, বি৬ ও ফসফরাস থাকে । এ উপাদান গুলো মানব শরীরের জন্য ভিষণ উপকারী । এবং নিয়মিত এই মাংস খেলে কোলেস্টেরল কমে যায় ।
  8. টার্কির মাংসে এমাইনো এসিড ও ট্রিপটোফেন অধিক পরিমাণে থাকায় এর মাংস খেলে শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় ।
  9. টার্কির মাংসে ভিটামিন ই অধিক পরিমাণে থাকে ।

টার্কি পালনের অর্থনৈতিক বৈশিষ্ট ----


  1. ডিম দেয়া শুরুর বয়স = ৩০ সপ্তাহ ।
  2. পরুষ ও স্ত্রীর অনুপাত = ১ :৫।
  3. বসরে গড় ডিম = ৮০ – ১০০ টি ।
  4. ডিম ফুটে বাচ্চা বেড় হয় = ২৮ দিনে ।
  5. ২০ সপ্তাহে গড় ওজন পুরুষ পাখী = ৭ – ৮ কেজি ।
  6. স্ত্রী পাখী = ৪ – ৫ কেজি ।
  7. বাজারজাত করনের সঠিক সময় পুরুষ = ১৪ – ১৫ সপ্তাহ ।
  8. স্ত্রী পাখী = ১৭ – ১৮ সপ্তাহ ।
  9. উপযুক্ত ওজন পুরুষ পাখী = ৮ – ১০ কেজি ।
  10. স্ত্রী পাখী = ৫ – ৬ কেজি ।

ডিম উৎপাদন –

সাধারণত ৩০ সপ্তাহ বয়স থেকে টার্কি ডিম দেয়া শুরু করে । প্রয়োজনীয় আলো বাতাস, পরিষ্কার পানি এবং খাবার সরবরাহ করা হলে বসরে ৮০ – ১০০ ডিম দিয়ে থাকে । ৬০ – ৭০ শতাংশ টার্কি মুরগী বিকেল বেলায় ডিম দেয় ।

মাংস উৎপাদন –

টার্কি দ্রুত মাংস উৎপাদনশীল একটি পাখী । দেশী হাস – মুরগীর মত সাধারন নিয়মে পালন করলেও ২৮ -৩০ সপ্তাহে প্রতিটি গড়ে ৫-৬ কেজি ওজন হয় ।

টার্কি পালন পদ্ধতি –

মুক্ত অবস্থায় ও আবদ্ধ অবস্থায় পালন করা যায় ।

লিটার ব্যাবস্থাপনা ঃ

এই পদ্ধতিতে টার্কির জন্য সহজলভ্য দ্রব্য ব্যাবহার করা যায় । যেমন নারিকেলের ছোবড়া, কাঠের গুরা, তুষ, বালি । প্রথমে ২ ইঞ্চি পুরু লিটার তৈরি করতে হয় । পরে আস্তে আস্তে আরো উপাদান যোগ করে ৩ - ৪ ইঞ্চি করলে ভালো হয় । লিটারে সব সময় শুকনো দ্রব্য ব্যাবহার করতে হবে । ভিজা লিটার তুলে সেখানে আবার শুকনো লিটার দিয়ে পূর্ণ করতে হবে ।

* খাবার –

টার্কির খাবার সরবরাহের জন্য দুইটি পদ্ধতি ব্যাবহার করা যায় । যেমন ম্যাশ ফিডিং ও পিলেট ফিডিং ।
একটি আদর্শ খাদ্য তালিকা নিচে দেয়া হলো –
ধান --------------- ২০%
গম ---------------- ২০%
ভুট্টা --------------- ২৫%
সয়াবিন মিল ------- ১০%
ঘাসের বীজ -------- ৮%
সূর্যমুখী বীজ ------- ১০%
ঝিনুক গুড়া -------- ৭%
মোট = ১০০%

* সতর্কতা –

অন্যান্য পাখির তুলনায় টার্কির জন্য বেশী ভিটামিন, প্রোটিন, আমিষ, মিনারেলস দিতে হয় । কোন ভাবেই মাটিতে খাবার সরবরাহ করা যাবে না । সব সময় পরিষ্কার পানি দিতে হবে ।

* সবুজ খাবার –

সব সময় মোট খাবারের সঙ্গে ৫০% সবুজ ঘাস খেতে দিলে ভালো । সে ক্ষেত্রে নরম জাতীয় যে কোন ঘাস হতে হবে । যেমন – কলমি, হেলেঞ্চা ইত্যাদি । একটি পূর্ণ বয়স্ক টার্কির দিনে ১৪০ – ১৫০ গ্রাম খাবার দরকার হয় । যেখানে ৪৪০০ – ৪৫০০ ক্যালোরি নিশ্চিত করতে হবে ।

* প্রজনন ব্যাবস্থা –

একটি টার্কি মুরগীর জন্য ৪ – ৫ বর্গ ফুট জায়গা নিশ্চিত করতে হবে । ঘরে পর্যাপ্ত আলো ও বাতাসের ব্যাবস্থা থাকতে হবে । ঘর পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে । একটি মোরগের সঙ্গে ৩ বা ৪ টি মুরগী রাখা যেতে পারে । ডিম সংগ্রহ করে আলাদা জায়গায় রখতে হবে । ডিম প্রদান কালীন সময়ে টার্কিকে আদর্শ খাবার এবং বেশী পানি দিতে হবে ।

* বাচ্চা ফুটানো –

টার্কি নিজেই ডিমে তা দিয়ে বাচ্চা ফোটায় । তবে দেশী মুরগী অথবা ইনকিউবেটর দিয়ে বাচ্চা ফুটালে ফল ভালো পাওয়া যায় । তাছাড়া বাচ্চা উৎপাদনের জন্য সময় নষ্ট না হওয়ার কারণে টার্কিও ডিম উৎপাদন বেশী করে ।

* রোগ বালাই –

পক্স, সালমোনেলোসিস, কলেরা , মাইটস ও এভিয়ান ইনফুলেঞ্জা বেশী দেখা যায় । পরিবেশ ও খমার অব্যাবস্থাপনার কারণে অনেক রোগ সংক্রমণ হতে পারে ।

* টিকা প্রদান----

১ম দিন ---------- এন ডি ( বি১ স্টেরেইন ) ।
৪ ও ৫ সপ্তাহে ---- ফাউল পক্স ।
৬ সপ্তাহে ---------- এন ডি ।
৮ – ১০ সপ্তাহে –- ফাউল কলেরা ।
যেহেতু আমাদের দেশে মুরগির রানিক্ষেত রোগ হ্য়। তাই রানিক্ষেত রোগের টিকা দিয়ে নিতে পারেন।
সতর্কতাঃ-- কোন অবস্থায় রোগাক্রান্ত পাখিকে টিকা দেয়া যাবে না। টিকা প্রয়োগ করার পূর্বে টিকার গায়ে দেয়া তারিখ দেখে নিবেন। মেয়াদ উরতিন্ন টিকা প্রয়োগ করবেন না ।
এছাড়া নিয়ম মাফিক, পরিচ্ছন্ন খাদ্য ও খামার ব্যাবস্থাপনার মাধ্যমে অনেক রোগ – বালাই এড়িয়ে চলা সম্ভব ।

* বাজার সম্ভবনা –


  1. টার্কির মাংস পুষ্টিকর ও সুস্বাদু হওয়ায় এটি খাদ্য তালিকার একটি আদর্শ মাংস হতে পারে । পাশাপাশি দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর মাংসের চাহিদা মেটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখতে পারে । যাদের অতিরিক্ত চর্বি যুক্ত মাংস খাওয়া নিষেধ অথবা যারা নিজেরাই এড়িয়ে চলেন, কিংবা যারা গরু / খাসীর মাংস খায়না , টার্কি তাদের জন্য হতে পারে প্রিয় একটি বিকল্প । তাছাড়া বিয়ে, বৌ –ভাত, জন্মদিন সহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে খাসীর/গরুর মাংসের বিকল্প হিসেবে টার্কির মাংস হতে পারে অতি উৎকৃষ্ট একটি খাবার । এবং গরু / খাসীর তুলনায় খরচ ও হবে কম ।
  2. বানিজ্যিক খামার করলে এবং মাংস হিসেবে উৎপাদন করতে চাইলে ১৪/১৫ সপ্তাহে একটি টার্কির গড় ওজন হবে ৫/৬ কেজি । ৪০০ টাকা কেজি দর হিসেব করলে একটি টার্কির বিক্রয় মুল্য দাঁড়াবে ২০০০/২৫০০ টাকা । ১৪/১৫ সপ্তাহ পালন করতে সর্বচ্চ খরচ পরবে ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকা । তাহলে কম পক্ষে একটি টার্কি থেকে ৫০০ টাকা লাভ করা সম্ভব ।
  3. তবে মাংস হিসেবে বানিজ্যিক খামার গড়ে উঠতে আমাদের আরো কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে । কারন তাতে বিদেশ থেকে আরো উন্নত জাত সংগ্রহ করতে হবে, অধিক বিনিয়োগ করতে হবে । কিন্তু বর্তমানে ছোট আকারের খামার করার যে চাহিদা দেশ ব্যাপী তৈরি হয়েছে, তাতে আগামী ৩/৪ বসরে কয়েক লাখ টার্কির প্রয়োজন হবে । এবং সে ক্ষেত্রে দাম ও বেশী পাওয়া যাচ্ছে । ৩০০০ থেকে ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত বয়স ও রং ভেদে টার্কির জোড়া কেনা – বেচা চলছে ।

আপনি কেন টার্কির খামার করবেন ??
• যারা বেকার বসে আছেন * যারা নতুন কিছু শুরু করতে চান * পোল্ট্রি ব্যবসা করে যারা লোকসানের সম্মুখীন হয়েছেন এবং আপনার স্থাপনা এখন কোন কাজে আসছে না * যারা কম ঝামেলা পূর্ণ কাজ পছন্দ করেন এবং ভালো আয়ের উৎস খুজছেন * যারা অল্প পুঁজি এবং কম ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবসা খুজছেন, টার্কির খামার তাদের জন্য আদর্শের । কারন হিসেবে আমার অভিমত – ১। একটি আদর্শ টার্কি খামার করতে খুব বেশী পুঁজির প্রয়োজন হয় না । ২। অন্যান্য পাখীর তুলনায় এর রোগ বালাই কম এবং কিছু নিয়ম মেনে চললে এই খামারে ঝুঁকি অনেক কম । ৩। যেহেতু ৮০% পর্যন্ত ঘাস দেয়া যায়, তাই খবারে খরচ কম । ৪। বাজার চাহিদা প্রচুর । ৫। উচ্চ মুল্য থাকায় খরচের তুলনায় আয় অনেক বেশী ।

* শেষ কথা -----

বাংলাদেশের গ্রাম গঞ্জে অনেক জায়গা অনাবাদী/ পতিত অবস্থায় পরে থাকে । যেখানে প্রাকৃতিক ভাবে জন্মে রয়েছে বভিন্ন ঘাস – লতা । এরকম উন্মুক্ত জায়গা টার্কি পালনের জন্য বেশী উপযোগী ।অন্য দিকে আমদের রয়েছে এক বৃহত্তর বেকার জনগোষ্ঠী । তাই একদিকে অব্যবহৃত জমিকে ব্যবহার এবং বেকার দের জন্য কর্ম সংস্থান, এই দুই এর মাঝে সেতু বন্ধন হতে পারে ছোট একটি টার্কি খামার ।

তথ্য সূত্র : https://3.bp.blogspot.com

Sunday, 14 January 2018

পোলট্রি শিল্পে সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত : টার্কি


টার্কি (Turkey) মেলিয়াগ্রিডিডিই পরিবারের এক ধরনের বড় আকৃতির পাখি বিশেষ। এগুলো দেখতে মুরগির বাচ্চার মতো হলেও তুলনামূলকভাবে অনেক বড়। বিশ্বের সর্বত্র টার্কি গৃহপালিত পাখিরূপে লালন-পালন করা হয়। এরা পরিবেশের সঙ্গে দ্রুত নিজেকে মানিয়ে নিতে পারে। পালনের জন্য উন্নত অবকাঠামো দরকার হয় না । এরা প্রতিদিন মোট খাদ্যের ৫০-৬০ ভাগ নরম ঘাস খায়। তাই খাবার খরচ কম। রোগবালাই (বার্ড ফ্লু, গুটি বসন্ত, ঠাণ্ডাজনিত রোগ ছাড়া এখন পর্যন্ত এদের অন্য কোনো রোগ পরিলক্ষিত হয়নি) কম বলে চিকিৎসা খরচ কম। মাংস উৎপাদনের দিক থেকে খুবই ভালো (৬ মাস বয়সে ৫-৬ কেজি)। পাখির মাংস হিসেবে এটা মজাদার এবং কম চর্বিযুক্ত। তাই গরু বা খাসির মাংসের বিকল্প হতে পারে। আমাদের দেশে অনেকের ব্রয়লার মুরগির মাংসের ওপর অনীহা আছে। তাদের জন্য এটা হতে পারে প্রিয় খাবার। প্রোটিনের নতুন আরেকটি উৎস হিসেবে টার্কি হতে পারে বাণিজ্যের নতুন দিগন্ত।
টার্কি পাখি পরিচিতি : আমাদের দেশের অনুকূল আবহাওয়া ও পরিবেশে পশুপাখি পালন অন্যান্য দেশের তুলনায় সহজ। আবার কিছু প্রাণী আছে যারা দ্রুত পরিবেশের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারে। আর টার্কি পাখি সে রকম একটি সহনশীল জাত, যে কোনো পরিবেশ দ্রুত এরা নিজেকে মানিয়ে নিতে পারে। এরা বেশ নিরীহ ধরনের পাখি, মুক্ত অথবা খাঁচা উভয় পদ্বতিতে পালন করা যায়। ৬-৭ মাস বয়স থেকে ডিম দেয়া শুরু করে এবং বছরে ২-৩ বার ১০-১২টি করে ডিম দেয়। একটি মেয়ে টার্কির ৫-৬ কেজি এবং পুরুষ টার্কি ৮-১০ কেজি ওজন হয়। এদের মাংস উৎকৃষ্ট স্বাদের। ঘাস, পোকামাকড়, সাধারণ খাবার খেতে এরা অভ্যস্ত, তবে উন্নত খাবার দিলে ডিম ও মাংসের পরিমাণ বেশি পাওয়া যায়। ৪-৫ মাস বয়সের টার্কি ক্রয় করা ভালো, এতে ঝুঁকি কম থাকে এবং লিঙ্গ নির্ধারণ সহজ হয়, এরকম বয়সের এক জোড়া টার্কিও দাম হবে প্রায় ৪৫০০-৫০০০ টাকা। প্রথমে বাণিজ্যিকভাবে শুরু না করে ৮-১০ জোড়া দিয়ে শুরু করা ভালো, কারণ তাতে সুবিধা অসুবিধাগুলো নির্ণয় করা সহজ হয়।
রোগবালাই : টার্কি পাখির তেমন বড় কোনো রোগবালাই নেই। চিকেন পক্সের টিকা নিয়মিত দিলে এ রোগ এড়ানো সম্ভব। অতি বৃষ্টি বা বেশি শীতের সময় মাঝে মাঝে ঠা-াজনিত রোগ দেখা যায়, রেনামাইসিন জাতীয় ওষুধ দিলে ভালো ফল পাওয়া যায়। তবে নিয়োমিত টিকা দিলে এসব রোগ থেকে সহজেই টার্কিকে রক্ষা করা যায়।
টিকাপ্রদান সূচি : এক দিন বয়স- এনডি-বি১ স্ট্রেইন # ৪র্থ ও ৫ম সপ্তাহ- ফাউল পক্স # ৬ষ্ঠ সপ্তাহ - এনডি-(আর২বি); ৮-১০ সপ্তাহ - কলেরা ভ্যাকসিন
টার্কি পালনের সুবিধা
  • এদের মাংস উৎপাদন ক্ষমতা অনেক, টার্কি ব্রয়লার মুরগির থেকে দ্রুত বাড়ে;
  • ঝামেলাহীনভাবে দেশি মুরগির মতো পালন করা যায়; অল্প পুঁজিতে একটি আদর্শ টার্কির খামার করা যায়;
  • টার্কি পালনে তুলনামূলক খরচ কম, দানাদার খাদ্যের পাশাপাশি ঘাস, লতা-পাতা খেতেও পছন্দ করে;
  • টার্কি দেখতে সুন্দর, তাই বাড়ির শোভাবর্ধন করে;
  • টার্কির মাংসে প্রোটিনের পরিমাণ বেশি, চর্বি কম। তাই গরু কিংবা খাসির মাংসের বিকল্প হতে পারে;
  • টার্কির মাংসে অধিক পরিমাণ জিংক, লৌহ, পটাশিয়াম, ভিটামিন বি৬, ভিটামিন ই ও ফসফরাস থাকে। এ উপাদানগুলো মানব শরীরের জন্য উপকারী এবং নিয়মিত এ মাংস খেলে কোলেস্টেরল কমে যায়;
  • টার্কির মাংসে এমাইনো এসিড ও ট্রিপটোফেন অধিক পরিমাণে থাকায় এর মাংস শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়;
  • অন্যান্য পাখির তুলনায় রোগবালাই কম এবং কিছু নিয়ম মেনে চললে খামারে ঝুঁকি অনেক কমে যায়;
  • উচ্চমূল্য থাকায় খরচের তুলনায় আয় অনেক বেশি।
পালন পদ্ধতি : দুইভাবে টার্কি পালন করা যায়- ০১. মুক্ত চারণ পালন পদ্ধতি ও ০২. নিবিড় পালন পদ্ধতি
মুক্ত চারণ পালন পদ্ধতি
মুক্ত চারণ পদ্ধতিতে এক একর ঘেরা জমিতে ২০০-২৫০টি পূর্ণ বয়স্ক টার্কি পালন করা যায়। রাতে পাখিপ্রতি ৩-৪ বর্গফুট হারে জায়গা লাগে। চরে খাওয়ার সময় তাদের শিকারি জীবজন্তুর হাত থেকে বাঁচাতে হবে। ছায়া ও শীতল পরিবেশ জোগানর জন্য খামারে গাছ রোপণ করতে হবে। চারণভূমি ঘুরিয়ে ফিরিয়ে ব্যবহার করতে হবে এতে পরজীবীর সংক্রমণ কম হয়। সুবিধা : খাবারের খরচ ৫০ শতাংশ কম হয়; স্বল্প বিনিয়োগ : খরচের তুলনায় লাভের হার বেশি।
মুক্ত চারণ ব্যবস্থায় খাবার : টার্কি খুব ভালোভাবে আবর্জনা খুঁটে খায় বলে এরা কেঁচো, ছোট পোকামাকড়, শামুক, রান্নাঘরের বর্জ্য ও উঁইপোকা খেতে পারে, যাতে প্রচুর প্রোটিন আছে ও যা খাবারের খরচকে ৫০ শতাংশ কমিয়ে দেয়।  এছাড়া শিম জাতীয় পশুখাদ্য যেমন লুসার্ন, ডেসম্যান্থাস, স্টাইলো এসব খাওয়ানো যায়। চরে বেড়ানো পাখিদের পায়ের দুর্বলতা ও খোঁড়া হওয়া আটকাতে খাবারে ঝিনুকের খোলা মিশিয়ে সপ্তাহে ২৫০ গ্রাম হিসাবে ক্যালসিয়াম দিতে হবে। খাবারের খরচ কম করার জন্য শাকসবজির বর্জ্য অংশ দিয়ে খাবারের ১০ শতাংশ পরিমাণ পূরণ করা যেতে পারে।
স্বাস্থ্য রক্ষা : মুক্তচারণ ব্যবস্থায় পালিত টার্কির অভ্যন্তরীণ (গোল কৃমি) ও বাহ্য (ফাউল মাইট) পরজীবী সংক্রমণের সম্ভাবনা অত্যন্ত বেশি থাকে। তাই পাখিদের ভালো বিকাশের জন্য মাসে একবার ডিওয়ার্মিং ও ডিপিং করা আবশ্যক।
নিবিড় পালন পদ্ধতি : বাসস্থান টার্কিদের রোদ, বৃষ্টি, হাওয়া, শিকারি জীবজন্তু থেকে বাঁচায় ও আরাম জোগায়। অপেক্ষাকৃত গরম অঞ্চলগুলোতে খামার করলে ঘরগুলো লম্বালম্বি পূর্ব থেকে পশ্চিমে রাখতে হবে। খোলা ঘরের প্রস্থ ৯ মিটারের বেশি হওয়া চলবে না। মেঝে থেকে ছাদ পর্যন্ত ঘরের উচ্চতা ২.৬ থেকে ৩.৩ মিটারের মধ্যে থাকতে হবে। বৃষ্টির ছাঁট আটকাতে ঘরের চালা এক মিটার বাড়িয়ে রাখতে হবে। ঘরের মেঝে সস্তা, টেকসই, নিরাপদ ও আর্দ্রতারোধক বস্তু যেমন কংক্রিটের হওয়া বাঞ্ছনীয়। কম বয়সি এবং প্রাপ্ত বয়স্ক পাখির ঘরের মধ্যে অন্তত ৫০ থেকে ১০০ মিটার দূরত্ব বজায় রাখতে হবে এবং পাশাপাশি দুটি ঘরের মধ্যে অন্তত ২০ মিটার দূরত্ব থাকতে হবে। ডিপ লিটার পদ্ধতিতে টার্কি পালনের সাধারণ পরিচালনা ব্যবস্থা মুরগি পালনেরই মতো, তবে বড় আকারের পাখিটির জন্য যথাযথ বসবাস, ওয়াটারার ও ফিডারের জায়গার ব্যবস্থা রাখতে হবে।
সুবিধা : উন্নত উৎপাদন দক্ষতা; উন্নততর পরিচালন ও ব্যাধি নিয়ন্ত্রণ।
নিবিড় পালন ব্যবস্থায় খাদ্য : নিবিড় পালন ব্যবস্থায় টার্কি মুরগিকে ম্যাশ ও পেলেট (ট্যাবলেট) দুইভাবেই খাবার দিতে হবে। মুরগির তুলনায় টার্কির শক্তি, প্রোটিন ও খনিজের প্রয়োজন বেশি। সেজন্য টার্কির খাবারে এগুলোর আধিক্য থাকতে হবে। খাবার মাটিতে না দিয়ে ফিডারে দিতে হবে। যেহেতু পুরুষ ও মাদির ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় শক্তির (এনার্জি) পরিমাণ আলাদা, তাই ভালো ফল পাওয়ার জন্য তাদের পৃথকভাবে পালন করতে হবে। টার্কিদের সব সময় অবিরাম পরিষ্কার পানির প্রয়োজন। গ্রীষ্মকালে ওয়াটারারের সংখ্যা বাড়িয়ে দিতে হবে এবং আপেক্ষতৃক ঠাণ্ডা সময়ে খাবার দিতে হবে। পায়ের দুর্বলতা এড়াতে দিনে ৩০-৪০ গ্রাম হারে ঝিনুকের খোসার গুঁড়া দিতে হবে এবং খাবারে পরিবর্তন আনার প্রয়োজন হলে তা আস্তে আস্তে করতে হবে।
সবুজ খাদ্য : নিবিড় পদ্ধতিতে ড্রাই ম্যাশ হিসাবে মোট খাদ্যের ৫০ শতাংশ পর্যন্ত সবুজ খাবার দেয়া যায়। সব বয়সের টার্কির জন্য টাটকা লুসার্ন প্রথম শ্রেণীর সবুজ খাদ্য। এছাড়া খাবারের খরচ কম করার জন্য ডেসম্যান্থাস ও স্টাইলো কুচি করে টার্কিদের খাওয়ান যেতে পারে।
বাংলাদেশে বাণিজ্যিকভাবে টার্কি মুরগি পালন দিনে দিনে জনপ্রিয়তা অর্জন করছে। টার্কি বাণিজ্যিক মাংস উৎপাদনের জন্য খুবই উপযুক্ত কিন্তু বাণিজ্যিকভাবে ডিম উৎপাদনের জন্য উপযুক্ত নয়।  তারা দেখতে খুব সুন্দর হয় এবং আপনার বাড়ির সৌন্দর্য বাড়াতে করতে সাহায্য করে। টার্কি মুরগি দ্রুত বড় হয়ে যায় এবং ব্রয়লার মুরগির মতো খাওয়ার উপযুক্ত হয়ে ওঠে। বাংলাদেশের আবহাওয়া অন্যান্য পরিস্থিতিতে টার্কি মুরগি পালনের জন্য খুবই উপযুক্ত। এগুলোর পালন মুরগির মতো খুব সহজ। বাংলাদেশে বাণিজ্যিকভাবে টার্কি পালন-ব্যবসা করে ভালো মুনাফা অর্জনের উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। একটুখানি সচেতনতা, সরকারি গবেষণা এবং ক্রেতা-বিক্রেতার পারস্পরিক অংশগ্রহণে এ টার্কিই হয়ে উঠতে পারে আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যম  এমনকি ব্যপক উৎপাদনের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের উপায়।

টার্কি পালন: অল্প সময়ে অধিক লাভ


দেশের বেকারত্ব নিরসনে নতুন দিক উন্মোচন করতে যাচ্ছে টার্কি পালন। যেখানে বাংলাদেশে বেকারত্বের হার  ৪৬% সেখানে অল্প কিছু টাকা বিনিয়োগ করেই এক বছরের মধ্যেই দ্বিগুণ লাভের মুনাফা দেখতে পারছেন টার্কি খামারিরা। বাংলাদেশে টার্কি পালন নতুন হলেও অন্যান্য উন্নত দেশগুলোতে ব্যাপক হারে পালন করা হচ্ছে টার্কি। নতুন জন্ম নেয়া বাচ্চা কম সময়ের মধ্যে লালন পালন করেই মাত্র তিন মাসের মাথায় টার্কিগুলো দ্বিগুণের চেয়েও বেশি দামে বিক্রি করে বেশ ভালো মুনাফা দেখতে পারছেন টার্কি খামারিরা।
অংশীদারির ভিত্তিতে ২০১৬ সালের মে মাসে রাজধানীর দক্ষিণ মাণ্ডা এলাকায় ১৩৩টি টার্কি মুরগি নিয়ে খামার গড়ে তুলেন সেলিম মিয়া। খামারের নাম দেন কাঁশবন অ্যাগ্রো ফার্ম লিমিটেড। সেলিমের পাশাপাশি আছেন আরও তিনজন অংশীদার। জমি নির্ধারণ, টার্কি বাচ্চা কেনাসহ অন্যান্য খরচ মিলিয়ে সর্বমোট বিনিয়োগ করছেন প্রায় ৮০ লাখ টাকা। তিলে তিলে গড়ে উঠা এই খামারে এখন টার্কি মুরগির সংখ্যা তিন হাজারেরও বেশি। একটি নির্দিষ্ট সময় পরপর সপ্তাহজুড়ে বিক্রি করা হচ্ছে টার্কি।
কথা হয় কাঁশবন অ্যাগ্রো ফার্ম লিমিটেডের ব্যবস্থাপক মো. আকরাম হোসেনের সাথে। তিনি ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘আমরা গত বছর ভারত থেকে মাত্র ১৩৩টি টার্কি মুরগি নিয়ে টার্কি খামার গড়ে তুলি। এরপর এই বাচ্চার সংখ্যা দাঁড়ায় ৫৫০টি। তবে এখন পর্যন্ত ফার্মের মুরগির মতো একসঙ্গে দুই হাজার বা তার থেকেও বেশি বাচ্চা ফুটানোর মতো অবস্থা হয়নি টার্কির। আমি মনে করি টার্কি এখনো রাজখানার মধ্যে আছে। এটি এমন একটি মুরগি এটি কখনো ব্রয়লার কিংবা লেয়ার মুরগির মতো হবে না। তবে টার্কি যদি নিচের লেয়ারেও আসে তা একটা মানের মধ্যে থাকবে।’
টার্কির দরদাম
দামের ব্যাপারে আকরাম হোসেন  বলেন, ‘আমরা যখন গত বছর কিনে এনেছিলাম তখন এর আরও অনেক দাম ছিল। তবে এখন খামারের সংখ্যা বাড়ার সাথে সাথে এর দাম কিছুটা হলেও কমছে। তবে এই মুহূর্তে দাম কিছুটা বেশি। বছরে বেশ কয়েকবার এর দাম উঠানামা করে। এটি মূলত হয় বাজারের চাহিদা অনুযায়ী। এখন ১৫ দিন বয়সের একজোড়া্ টার্কির দাম এক হাজার ৫০০ টাকা থেকে শুরু। ৩০ দিনের বাচ্চার দাম তিন হাজার টাকা জোড়া। সাড়ে তিন মাস বয়সী জোড়া প্রতি টার্কি এখন পর্যন্ত নয় হাজার টাকায় বিক্রি করা সম্ভব। তবে এখন পূর্ণ বয়স্ক এক জোড়া টার্কি বিক্রি হচ্ছে ১৪ হাজার টাকায়। আর যেগুলো এখন ডিম পাড়ছে তাদের একটির দামই এখন ১০ হাজার টাকা।

এই টার্কি তিনি রাজধানীর বিভিন্ন চেইনশপ যেমন স্বপ্ন, অ্যাগোরা ও মিনা বাজারে বিক্রি করে দেন। সেখানে পূর্ণবয়স্ক প্রতি জোড়া টার্কি বিক্রি হয় ১৫ হাজার টাকারও বেশি দামে। সেখানে প্রতি টার্কির ওজন হয় সাড়ে ছয় থেকে সাড়ে আট কেজি পর্যন্ত। সেখানে প্রতিকেজি টার্কির মাংস পাওয়া যায় মানভেদে ৮০০ থেকে ১০০০ টাকায়।’ তবে চাহিদার বাড়ার পাশাপাশি যোগান কম থাকায় চাইলেও বেশি টার্কি সরবরাহ করতে পারছেন না তারা।
টার্কির খাবার
খাদ্যের ব্যাপারে খামারের খাদ্য ব্যবস্থাপনায় দায়িত্বরত আশরাফ হোসেন ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘যেসব টার্কির বয়স ৪০ দিনের উপরে, তাদেরকে আমরা প্রতিদিন বিভিন্ন শাক সবজি খাওয়ানো শুরু করি। এই খাদ্যের তালিকায় থাকে কলমি, হেলেঞ্চা, সরিষা, পালংকসহ বিভিন্ন ধরনের শাক আমাদের তালিকায় থাকে। এই শাক সবজি খাওয়ানোর ক্ষেত্রেও আমরা মান রক্ষা করি। একটি নির্দিষ্ট কোয়ালিটি ছাড়া আমরা আমরা টার্কিকে কিছুই খাওয়াই না। ফলে খাদ্যে কোয়ালিটি থাকায় আমাদের খামারের টার্কিগুলোতে রোগ আঘাত আনতে পারে না। টার্কির যাতে রোগ বালাই আঘাত না করতে পারে সেই জন্য আমরা আড়াই মাস বয়সী টার্কিকে চারটি ভ্যাকসিন দিয়ে থাকি।’
‘আমাদের খামারে ঢুকতে হলে প্রত্যেকের ডেটল স্যাভলন দিয়ে রোগ জীবাণু মুক্ত হয়ে ভেতরে প্রবেশ করতে হবে। পরতে হবে খামারের রোগ জীবাণুমুক্ত নিজস্ব জুতা। তবে টার্কির রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অন্যান্য মুরগির চাইতে অনেক বেশি। দেখা যায়, বার্ড ফ্লু আঘাত হানলেই মুরগি সব মারা যায়। কিন্তু টার্কির কিছু হয় না। আমাদের দেশে অন্যান্য মহামারি রোগ যেমন রাণিক্ষেত হলে দেশের সব হাস মুরগি মারা যায়। কিন্তু টার্কির প্রতিরোধ ক্ষমতা এত বেশি যে এদের জ্বর-ঠান্ডা ছাড়া আর কোনো রোগ আক্রান্ত করতে পারে না।’
টার্কির উৎপাদন ক্ষমতা অনেক বেশি
অন্যান্য প্রাণীর তুলনায় টার্কির উৎপাদন ক্ষমতা অনেক বেশি। প্রতি ২০ সপ্তাহ বয়স থেকে টার্কি ডিম পাড়া শুরু করে। একটি নির্দিষ্ট সময় পর ১০০টি ডিম পাড়ে। ডিম পাড়ার মাত্র ২৮ দিনের মাথায় ডিম ফুটে বাচ্চা বের হওয়া শুরু করে। এই ব্যাপারে ব্যবস্থাপক আকরাম হোসেন বলেন, ‘আমাদের এখানে সাধারণত ২৬ সপ্তাহ বয়স থেকে টার্কিগুলো ডিম দেয়া শুরু করে। প্রয়োজনীয় আলো বাতাসের ব্যবস্থা থাকায় বছরে একেকটি টার্কি ৯০টিরও বেশি ডিম দিয়ে থাকে। তবে বেশিরভাগ টার্কি বিকাল থেকে সন্ধ্যায় ডিম দেয়।’
আকরাম জানান, তার খামারে প্রায় সব জাতের টার্কি রয়েছে। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য হল ব্ল্যাক, রাঙ্গিন সেট, স্লেট, ব্রোঞ্জ, রয়েল পাম্প ইত্যাদি। এর মধ্যে রয়েল পাম্পের দাম সবচেয়ে বেশি। যা বিক্রি হচ্ছে জোড়াপ্রতি ২০ হাজার টাকা। এগুলো আকারে বেশ বড় হয়ে থাকে।
বাসায় পালনের ক্ষেত্রে ব্যবস্থাপক জানান, ‘টার্কি এখনো ঘরে পালার মতো যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি। বাসার বাইরে কিংবা ছাদে পালনের ক্ষেত্রে প্রথমে একটি শেড বানাতে হবে। শেডের ভেতরে নরম ফোম দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। শীতপ্রধান দেশগুলোতে এদের আদি জন্ম থাকায় এরা সহজে গরম সহ্য করতে পারে না। তাই ফোম দিলে গরম কিছুটা কম লাগবে। আর যে কাজটি বেশি গুরত্বের সাহায্যে করতে হবে তা হলো জীবাণুমুক্ত রাখা। এর পাশাপাশি খাদ্যের জন্য রাখতে হবে কলমি, হেলেঞ্চা, সরিষা, পালংকসহ বিভিন্ন ধরনের শাক। আর বাৎসরিকভাবে রোগ থেকে মুক্ত রাখার জন্য প্রথম আড়াই মাসে চারটি ভ্যাকসিন দিয়ে রাখতে হবে। ভ্যাকসিন না দিলেও এর রোগ বালাই সহজে আক্রান্ত করতে পারে না। অর্থাৎ এই ব্যবস্থাগুলো গ্রহণ করলেই বাসার বাইরে কিংবা ছাদে সহজেই টার্কি পালন করা যাবে।
বেকারত্ব ঘোচাতে টার্কি পালন
এই ব্যবসায় আসার ব্যাপারে খামারের একাংশের মালিক সেলিম মিয়া ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘আমার এই খামারের ব্যবসার পাশাপাশি আরও বেশ কয়েকটি ব্যবসা রয়েছে। মূলত এই ব্যবসায় আসার পেছনে আমার শখ সবচেয়ে বেশি কাজে লেগেছে। আর যখন শুনতে পারলাম টার্কি পালনে অন্যান্য হাস মুরগি পালনের মতো কোনো ঝামেলা নেই তখন এই ব্যবসায় করার প্রতি আমার আগ্রহ অনেক বেড়ে গিয়েছিল। আর এই ব্যবসায় অনেক মুনাফা পাওয়া যায়। পূর্ণবয়সী একটা টার্কি আমাদের খামার থেকে বিক্রি হয় গড়ে আট হাজার টাকায়। যা আমাদের কেনা পড়েছিল মাত্র বারো’শ টাকা জোড়ায়। আর এগুলো খুব বাড়ন্ত স্বভাবের।
তিনি বেকার যুবকদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আমি দুই একটি কথা বলতে চাই। আপনারা অল্প কিছু টাকা বিনিয়োগ করে এই টার্কি ব্যবসা গড়ে তুলুন। কারণ এইগুলোর রোগ, খাদ্য, বাসস্থানের জন্য বেশি অর্থ খাটানোর প্রয়োজন পড়ে না। অল্প কিছু জায়গায় টার্কি খামার দিলে আপনি বছর শেষে কয়েকগুণ বেশি লাভ করতে পারবেন।’