Showing posts with label az. Show all posts
Showing posts with label az. Show all posts

Wednesday, 1 November 2017

খালি পেটে হাঁটবেন, নাকি কিছু খেয়ে?


সকালবেলা খালি পেটে ব্যায়াম করা বা হাঁটার অভ্যাস বেশির ভাগ মানুষের। আবার অনেকে সকালে হাঁটতে যাওয়ার আগে হালকা কিছু খেয়ে নেন।

আমরা যখন খালি পেটে থাকি তখন শরীরে কাজ চালানোর মতো প্রয়োজনীয় গ্লুকোজ বা শর্করার চাহিদা মেটায় যকৃৎ বা লিভার। যকৃতে গ্লুকোজের জমিয়ে রাখা ভান্ডার থেকে আসে এই শর্করা। তবে এর বেশির ভাগটাই তখন কাজে লাগে মস্তিষ্ক, কিডনি, রক্তকোষ ইত্যাদি জরুরি অঙ্গের জন্য। এ অবস্থায় ব্যায়াম শুরু করলে পেশিতে গ্লুকোজের চাহিদা বেড়ে যায়, পরে যকৃৎকে আরও বেশি করে গ্লুকোজ সরবরাহ করতে হয়। খালি পেটে ব্যায়াম করলে বাড়তি শক্তি জোগাতে শরীরের চর্বি বেশি বেশি ভাঙবে, এ ধারণা কিন্তু ভুল। কেননা, যকৃতের ভান্ডার শেষ হওয়ার পরই কেবল চর্বি ভাঙতে শুরু করে। আবার ডায়াবেটিসের রোগীদের যকৃৎ থেকে গ্লুকোজ সরবরাহের প্রক্রিয়া প্রায়ই সমস্যাযুক্ত থাকে এবং না খেয়ে বেশি ব্যায়াম করলে হাইপোগ্লাইসেমিয়ার ঝুঁকি থাকে। উল্টো দিকে খাওয়া-দাওয়া করে ব্যায়াম করলে খাদ্যনালির ভালব দুর্বল হয়ে খাবার ওপরে উঠে আসতে পারে, বমি হতে পারে, গলা জ্বলে। এ সময় রক্ত সরবরাহ পাকস্থলী ও অন্ত্রের দিকে ধাবিত হয় বলে পেশিতে শক্তি কম পাওয়া যায়, অবসন্ন লাগে। গবেষকেরা বলছেন, খালি পেটে না ব্যায়াম করে হালকা ও জটিল শর্করাযুক্ত সামান্য খাবার খেয়ে নেওয়া ভালো।

 কী খাওয়া যায়?

শুকনো শর্করা (যেমন: মুড়ি বা চিড়া), দুধবিহীন সিরিয়াল, আপেল, এক টুকরো ব্রাউন ব্রেড ইত্যাদি

 কী খাওয়া উচিত নয়?

দুধ বা দুগ্ধজাত খাবার, ক্যাফেইনযুক্ত খাবার, মিষ্টিজাতীয় কিছু বা সহজ শর্করা, টক ফলমূল।

Monday, 30 October 2017

৪ হাজার টাকা বেতনেই কোটিপতি জামান

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) ইলেকট্রিশিয়ান সহযোগী হিসেবে ১৯৮৭ সালের ১২ মার্চ চাকরি শুরু করেন এ এস এম হোসাইনুর জামান। বেতন স্কেল ছিল ৯৬৫ টাকা। চতুর্থ শ্রেণির পদ থেকে দুই দফায় পদোন্নতি পেয়ে এখন চার হাজার ৭০০ টাকা বেতন স্কেলে পিডিবির ভাণ্ডাররক্ষক হিসেবে কাজ করছেন। এই বেতনে চার ছেলেমেয়েসহ ছয় সদস্যের পরিবারের ভরণপোষণ ও পড়াশোনার খরচ করে তেমন কোনো সঞ্চয় থাকার কথা নয়।

কিন্তু চাকরিজীবনের মাত্র ১৯ বছরেই কোটিপতি বনে গেছেন তিনি। পরিবারের সদস্যরাও বসবাস করছেন সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যে। চট্টগ্রাম শহরে রয়েছে তার একটি সাততলা দৃষ্টিনন্দন বাড়ি, কুমিল্লার গ্রামের বাড়িতে রয়েছে দুই ইউনিটের একটি দ্বিতল ভবন, গ্রামে কিনেছেন সাত একর জায়গা-জমি, চট্টগ্রামের অভিজাত মার্কেটে আছে একটি দোকান। তা ছাড়া শেয়ারও রয়েছে শহরের একটি কমিউনিটি সেন্টারের।
কী করে সম্ভব এসব? দুদক চট্টগ্রাম কার্যালয়ের তদন্তকারী কর্মকর্তা উপসহকারী পরিচালক মোহাম্মদ সফিউল্লা বলেন, ‘অনিয়ম-দুর্নীতি করে ১৯ বছরে এক কোটি সাত লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী, পিডিবির ভাণ্ডাররক্ষক এ এস এম হোসাইনুর জামান। তদন্ত শেষে তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে তাদের অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। দুর্নীতিতে সহযোগিতা করায় তার স্ত্রী লুৎফর নাহারকেও মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে।’
অবশ্য অভিযুক্ত পিডিবির ভাণ্ডাররক্ষক এ এস এম হোসাইনুর জামান বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে অফিসিয়াল কোনো দুর্নীতির অভিযোগ নেই। জাতীয় বিদ্যুৎ শ্রমিক লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হওয়ায় সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় এ হয়রানিমূলক দুর্নীতির মামলাটি হয়েছিল।’ দুর্নীতির অভিযোগ সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি সরাসরি কোনো উত্তর দেননি।
ভাণ্ডাররক্ষক জামানের বাবা মোখলেছুর রহমান রেলওয়ে বাংলাদেশের একজন পাম্পচালক ছিলেন। তেমন কোনো সম্পদও নেই তার। দুদকের তদন্ত শেষে চার্জশিটে তুলে ধরা হয়েছে, এ বেতনে সন্তানদের পড়াশোনা ও ছয় সদস্যের ভরণপোষণের পর জামানের বাড়তি অর্থ থাকা কঠিন। তারপরও পিডিবির ভাণ্ডাররক্ষক জামানের এক কোটি সাত লাখ ৩৯ হাজার ৩৭১ টাকার অবৈধ ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের দালিলিক প্রমাণ পেয়েছে দুদক।
দুদক চার্জশিটে বলা হয়েছে, ১৯ বছরের চাকরিজীবনে জামান চতুর্থ শ্রেণির সরকারি কর্মচারী হিসেবে সাত বছর ও তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী হিসেবে ১২ বছর চাকরি করেন। এ সময় তিনি নিজের নামে ও স্ত্রী লুৎফর নাহার জামানের নামে চট্টগ্রাম শহরের হালিশহরের সবুজবাগ আবাসিক এলাকায় ‘আরিফ ভবন’ নামে দুই ইউনিটের সাততলা একটি বাড়ি (হোল্ডিং নম্বর ১৯৫৬) নির্মাণ করেছেন, যার মূল্য ৬২ লাখ ৬০ হাজার টাকা। কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের গ্রামের বাড়িতে ১৩ দশমিক ৫ শতক জমি কিনে তিনি পাঁচতলা ফাউন্ডেশন দিয়ে ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে ডাবল ইউনিটের দ্বিতল বাড়ি নির্মাণ করেছেন, যার মূল্য ৩০ লাখ টাকা। এ ছাড়া গ্রামে বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে তিনি ১০ লাখ টাকার সাত একর ৫৩ শতক জমি কিনেছেন।
চট্টগ্রাম শহরের কাজীর দেউড়িতে অবস্থিত ভিআইপি টাওয়ারের ১২৫ নম্বর নাহার শাড়িঘর নামে একটি দোকানের পজিশন কিনেছেন চার লাখ সাত হাজার টাকা দিয়ে। চট্টগ্রাম মাতৃভূমি কমিউনিটি সেন্টারের শেয়ার কিনেছেন দুই লাখ টাকা দিয়ে। ২০১৭ সালের ২৭ আগস্ট চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম আদালতে জামান ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন দুদকের উপসহকারী পরিচালক মোহাম্মদ সফিউল্লা। ২০০৬ সালের ১৮ মে নগরীর হালিশহর থানায় এ দুর্নীতি মামলা করা হয়। আসামিরা জামিনে গিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আদালতে অনুপস্থিত রয়েছেন বলে চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে। সমকাল

প্রতি রাতেই নগ্ন হতে হয় : কোয়েল মল্লিক

প্রতি রাতেই টলিপাড়ার সুন্দরীদের ‘পোশাক’ খুলতে হয়৷ বিস্ফোরক এই মন্তব্য করে টলিগঞ্জে আলোড়ন ফেলে দিলেন রঞ্জিত-কন্যা অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক৷ সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এই বিস্ফোরক মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘প্রতি রাতেই আমাদের নগ্ন হতে হয়৷’ তাঁর এই কথার পরেই রীতিমতো হইচই পড়েছে রুপোলি জগতে৷

এদিনের সাক্ষাৎকারে নানা প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন সাংবাদিকরা৷ তারই সুত্র ধরে সাংবাদিকরা জানতে চান, টলি অভিনেত্রী স্বস্তিকার সঙ্গে তাঁ সম্পর্ক কেমন? এর উত্তর দিতে গিয়েই কোয়েল বলেন, ‘আমার সঙ্গে ওঁর (স্বস্তিকা) সম্পর্ক কখনও খারাপ ছিল না৷ তবে কিছু সমস্যা হয়েছিল৷ সেটা সাময়িক? এখন তা এক্কেবারে স্বাভাবিক হয়ে গিয়েছে৷’

তিনি আবার স্বস্তিকার সঙ্গে অভিনয় করতে চান কি না? জানতে চাইলে টলিপাড়ার এই অভিনেত্রী বলেন, ‘ভালো কাজ থাকলে অবশ্যই করব৷ স্বস্তিকা খুবই সাহসী অভিনেত্রী৷ অনেক খোলামেলা৷ অভিনয়েও পারদর্শী৷ তবে, আমি অতটা করে উঠতে পারিনি৷ নতুন ভালো কিছু অফার পেলে অবশ্যই করব।’
এর পরই বিস্ফোরক মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘দেখুন প্রতিদিনই আমাদের নগ্ন হতে হয়৷ এতে লুকোচুরির কিছু নেই৷ তবে, আমাদের তো অভিনয়েই সব৷ সুতরাং অভিনয়ের জন্য নগ্নতাকে সামনে আনতেও কোনও অসুবিধা নেই৷’

Sunday, 29 October 2017

উচ্চতা অনুযায়ী আপনার ওজন কত হওয়া উচিত


উচ্চতা অনুযায়ী আপনার সঠিক ওজন কত, কতটুকু কম হলে আপনার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ- ওজন নিয়ে আমাদের সকলের মাথা ব্যথা। ওজন বাড়লেও সমস্যা আবার ওজন কম হলেও সমস্যা। চিকিৎসকরাও গুরুত্ব দেন ওজনের ওপরে।
মোটা রোগার থেকে শরীর সুস্থ রাখার ক্ষেত্রে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হল সঠিক ওজন। আমরা না জেনেই শারীরিক গঠন রোগা না মোটা সেই অনুযায়ী ওজন বাড়ানোর বা কমানোর চেষ্টা করি। আর তাতেই সমস্যা হয় শরীরে।
তাই আমাদের জেনে রাখা দরকার কোন শারীরিক উচ্চতায় কোন ওজন সঠিক? আদর্শ ওজন নির্ণয়ের পদ্ধতিতে একজন ব্যক্তির ওজন কিলোগ্রামে মাপা হয় এবং উচ্চতা মিটারে মাপা হয়।
এবার ওজনকে উচ্চতার বর্গফল দিয়ে ভাগ করা হয়। এই ভাগফলকে বলে বিএমআই। বিএমআই ১৮ থেকে ২৪-এর মধ্যে হলে স্বাভাবিক।
২৫ থেকে ৩০-এর মধ্যে হলে স্বাস্থ্যবান বা অল্প মোটা, ৩০ থেকে ৩৫-এর মধ্যে হলে বেশি মোটা। আর ৩৫-এর ওপরে হলে অত্যন্ত ও অসুস্থ পর্যায়ের মোটা বলা যেতে পারে।
তাহলে জেনে নিন আপনার ওজন আপনার উচ্চতা অনুযায়ী সঠিক তো?
উচ্চতা ——পুরুষ (কেজি) —- নারী (কেজি)
►৪’৭” —— ৩৯-৪৯ —– ৩৬-৪৬
►৪’৮” —— ৪১-৫০ —– ৩৮-৪৮
►৪’৯” —— ৪২-৫২ —– ৩৯–৫০
►৪’১০” —— ৪৪-৫৪ —– ৪১–৫২
►৪’১১” —— ৪৫-৫৬ —– ৪২-৫৩
►৫ফিট —— ৪৭-৫৮ —– ৪৩-৫৫
►৫’১” —— ৪৮-৬০ —– ৪৫-৫৭
►৫’২” —— ৫০-৬২ —– ৪৬-৫৯
►৫’৩” —— ৫১-৬৪ —– ৪৮-৬১
►৫’৪” —— ৫৩-৬৬ —– ৪৯-৬৩
►৫’৫” —— ৫৫-৬৮ —– ৫১-৬৫
►৫’৬” —— ৫৬-৭০ —– ৫৩-৬৭
►৫’৭” —— ৫৮-৭২ —– ৫৪-৬৯
► ৫’৮” —— ৬০-৭৪ —– ৫৬-৭১
► ৫’৯” —— ৬২-৭৬ —– ৫৭-৭১
►৫’১০” —— ৬৪-৭৯ —– ৫৯-৭৫
►৫’১১” —— ৬৫-৮১ —– ৬১-৭৭
►৬ ফিট —— ৬৭-৮৩ —– ৬৩-৮০
►৬’১” —— ৬৯-৮৬ —– ৬৫-৮২
►৬’২” —— ৭১-৮৮ —– ৬৭-৮৪

Tuesday, 26 September 2017

দূর্বা ঘাসের ভেষজ উপকারিতা ।। চুল পড়া বন্ধ করে

দূর্বা ঘাসের ভেষজ উপকারিতাঃ দূর্বা ঘাস চিবিয়ে কেটে যাওয়া স্থানে লাগিয়ে দিলেই রক্তপাত বন্ধ হয়। কয়েক দিনের মধ্যেই কেটে যাওয়া স্থান সেরে ওঠে। এ ক্ষেত্রে দূর্বার শিকড় ব্যবহার করা বেশি উপকারী।


*রক্তক্ষরণঃ শরীরের কেটে যাওয়া বা আঘাতজনিত রক্তপাত বন্ধে দ্রুত কাজ করে।

 

*চুল পড়াঃ একটি পাত্রে এক লিটার নারিকেল তেল মৃদু তাপে জ্বাল করে ফেনা ফেলে নিন। তারপর দূর্বার ঘাসের টাটকা রস ২০০ মিলি সম্পূর্ণ তেলে মিশিয়ে ফের জ্বাল দিন। চুলা থেকে নামিয়ে ছেঁকে সংরক্ষণ করুন। গোসলের ১ ঘণ্টা আগে ওই তেল চুলে মাখুন। নিয়মিত ২ থেকে ৩ মাস ব্যবহার করলে চুল পড়া বন্ধ হবে। 


*বমি ভাবি বমি বমি ভাব বন্ধের জন্য দূর্বা ঘাসের রস ২ থেকে ৩ চামচ ১ চা চামচ চিনির সঙ্গে মিশিয়ে ১ ঘণ্টা পর পর খেতে থাকুন। বমি ভাব কেটে গেলে খাওয়া বন্ধ করে দিন। 


*আমাশয়ঃ আমাশয়ে দূর্বা ঘাসের রস ২ থেকে ৩ চামচ ডালিম পাতা কিংবা ডালিমের ছালের রস ৪ থেকে ৫ চামচ মিশিয়ে প্রতিদিন ৩ থেকে ৪ বার পান করুন। এভাবে ১০ থেকে ১৫ দিন খেলে আমাশয় সেরে যাবে। 


*ঋতুস্রাবঃ দূর্বাঘাসের রস মধু সহ দিনে ৩-৪ বার সেবন করতে হবে। ১০-১৫ দিন নিয়মিত সেবন করলে ঋতুস্রাব স্বাভাবিক হয়ে যাবে। 


*দন্তরোগঃ দূর্বার কচি ডগা সামান্য সরিষার তেলসহ দাঁতের গর্ত করা স্থানে দিলে জীবাণু মারা যায় ও উপকার হয়। 


*একজিমাঃ পায়ের একজিমা হলে চুলকিয়ে দূর্বাঘাসের রস দিলে কয়েকদিনে ভালো হয়।

Thursday, 21 September 2017

ভিখারিনী সেই মায়ের দায়িত্ব পালনে ৫ ছেলের শপথ

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার সেই বৃদ্ধ ভিখারি মায়ের দেখভাল করার জন্য পাঁচ ছেলেকে অঙ্গীকার করালেন রেঞ্জ ডিআইজি মো. শফিকুল ইসলাম। বৃহস্পতিবার (২১ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে এই অঙ্গীকার করানো হয়।
বৃদ্ধ মা মনোয়ারা বেগমের (৭০) দায়িত্ব নিতে তিন পুলিশ সন্তানসহ পাঁচজনই প্রস্তুত রয়েছেন। কিন্তু এক্ষেত্রে ডিআইজি তাদের একটি শর্তজুড়ে দিয়েছেন তিনি (ভিখারি) যার কাছে যাবেন সেই ছেলে দেখভাল করবেন।

এছাড়া বাকি ছেলেরাও তার নিয়মিত খোঁজখবর রাখবেন। এই বিষয়টি তদারকি করার জন্য বরিশাল জেলা পুলিশ সুপারকে নির্দেশনা দিয়েছেন ডিআইজি।
তবে বৃদ্ধা মায়ের স্কুলশিক্ষিকা কন্যা ডিআইজি অফিসে আসেননি।
বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, বৃদ্ধার ছেলেদের মুখ থেকে পুরো বিষয়টি শুনে পারিবারিক দ্বন্দ্বের আলামত পাওয়া গেছে। মূলত পৈত্রিক একটি সম্পত্তি নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ চলছে। যে কারণে মাকে অবহেলা বা অবজ্ঞা করা হয়েছে।


এই পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখতে পুলিশের একটি তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটিকে আগামী তিন কার্য দিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
পরবর্তীতে দোষগুণ বিবেচনা করার পরে বৃদ্ধ মা অনুমতি দিলে পুলিশ ছেলেদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য হেডকোয়াটারে সুপারিশ রাখা হবে।”
উল্লেখ্য, বাবুগঞ্জ উপজেলার ক্ষুদ্রকাঠী গ্রামের মৃত আইয়ুব আলী সরদারের স্ত্রী মনোয়ারা বেগম। আইয়ুব আলী কৃষক পরিবারের সন্তান হলেও নানা অভাব অনাটনের সংসারে ছয় সন্তানকে মানুষ করেছেন। সে দম্পতির ছয় সন্তানের মধ্যে তিন ছেলে- ফারুক হোসেন, নেছার এবং জসীম উদ্দিন পুলিশে কর্মরত। মেয়ে মরিয়ম সুলতানা শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত। অন্য দুই ছেলে শাহাবউদ্দিন ব্যবসা এবং গিয়াস উদ্দিন নিজের ব্যবহৃত ইজিবাইক ভাড়ায় চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন।
স্বামী মারা যাওয়ার পর ছেলে ও মেয়েদের অবহেলার কারণে ভিক্ষার থালা নিতে হয় বৃদ্ধা মনোয়ারা বেগমকে। কয়েক মাস আগে ভিক্ষা করতে গিয়ে পা পিছলে পড়ে তার কোমরের হাড় ভেঙে যায়। এরপর থেকেই তিনি স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে পারতেন না। ভিক্ষার পথও বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকে বিনা চিকিৎসায় অর্ধাহারে অনাহারে বাবুগঞ্জের স্টিল ব্রিজের পাশে একটি ঝুঁপড়ি ঘরে পড়েছিলেন।

Wednesday, 20 September 2017

অবশেষে অসহায় সেই বৃদ্ধা মাকে নিয়ে মুখ খুললেন স্কুলশিক্ষিকা কন্যা!

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ওই খবর মূহুর্তেই ছড়িয়ে পড়লে সাধারন জনতাকে ওই বৃদ্ধের সন্তানদের উদ্দেশ্যে ধিক্কার দিয়ে মন্তব্য করতে দেখা গেছে।  বিশেষ করে এই ঘটনায় বেশিমাত্রায় প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছেন তারই গর্ভে ধারণ করা তিন পুলিশ ছেলে ও স্কুল শিক্ষিকা মেয়ে।  

পত্রপত্রিকার কল্যাণে বিষয়টিতেআলোড়ন সৃষ্টি হওয়ায় ওই মায়ের সন্তান এখন কর্মস্থলে নানা প্রশ্নে সম্মুখীন হতে হচ্ছে।  কারণ, ইতোমধ্যে পুলিশ তিন ছেলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়টি ঘোষণা দিয়েছে বরিশাল জেলা পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম।  

এই পুলিশ কর্মকর্তা মঙ্গলবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই বৃদ্ধকে দেখতে যান এবং বৃদ্ধ মায়ের দায়িত্ব নেয়ার বিষয়টি সাংবাদিকদের অবহিত করেছেন।  

এছাড়া বৃদ্ধ মাকে অবহেলার কারণে আরেক সন্তান মেয়ে বাবুগঞ্জের পূর্ব ভুতেরদীয় নবারুন সরকাররি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মরিয়ম সুলতানাকে কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।  

সংশ্লিষ্ট উপজেলা শিক্ষা অফিসার কেএম তোফাজ্জল হোসেন সোমবার তাকে এই বিষয়ে শোকজ করেছেন।  

এ অবস্থায় স্কুল শিক্ষিকা বলেন, স্কুলের বেতন ব্যতীত তার আর কোন ইনকাম নেই।  ফলে স্বামীর সংসারে বসে তিনি বৃদ্ধ মায়ের তেমন একটা খরচ বহন করতে পারছেন না।  

যদিও এই শিক্ষিকা এর আগে গত শনিবার তার মাকে দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের বলেছিলেন- নিজের সংসার পরিচালনা করে আর সময় হয় না।  যে কারণে বৃদ্ধ মায়ের খোঁজখবর নিতে পারেননি।  

একজন মানুষ গড়ার কারিগরের মুখে এমন কথা শুনে খোদ পুলিশ প্রশাসনকেও হতবাক করেছিলো।  এমতাবস্থায় সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ে খবর নিয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে ওই শিক্ষিকার বেতন ২০ হাজারের ওপরে।  

ফলে এই বিষয়টি স্থানীয় সংসদ অ্যাডভোকেট শেখ মো. টিপু সুলতানকে খুব বেশি মর্মাহত করেছে।  যে কারণে তিনি পুলিশের সহযোগিতায় ওই বৃদ্ধকে উদ্ধার করে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছেন।  এমনকি তিনি নিজেই সার্বিক দায়ভার নেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।  

এছাড়াও অনেকে রাজনীতিবীদ, সমাজসেবক ও পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তারা ওই বৃদ্ধ নারীর দায়িত্ব নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।  

বাবুগঞ্জে কর্মরত ইত্তেফাক পত্রিকার প্রতিনিধি সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, ওই বৃদ্ধ উপজেলার ক্ষুদ্রকাঠী গ্রামের মৃত আইয়ুব আলী সরদারের স্ত্রী।  

আইয়ুব আলী কৃষক পরিবারের সন্তান হলেও নানা অভাব অনাটনের সংসারে ছয় সন্তান নিয়ে ভালোভাবেই দিন কেটেছে তাদের।  

আইয়ুব আলী-মনোয়ারা দম্পতির ছয় সন্তানের মধ্যে তিন ছেলে- ফারুক হোসেন, নেছার এবং জসীম উদ্দিন পুলিশে কর্মরত রয়েছেন।  মেয়ে মরিয়ম সুলতানা শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত।  অন্য দুই সন্তান শাহাবউদ্দিন ব্যবসা এবং গিয়াস উদ্দিন নিজের ব্যবহৃত ইজিবাইক ভাড়ায় চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন।