Tuesday, 9 January 2018
টুথপেস্টের এতো গুণ
সবার সকালের শুরুটা হয় ব্রাশ আর টুথপেস্ট দিয়ে। দাঁতের যত্নে টুথপেস্টের যেন কোনো বিকল্প নেই। তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো শুধু দাঁতের যত্নে নয়, ব্রাশ করা ছাড়াও ত্বকের যত্ন থেকে শুরু করে ঘরের বিভিন্ন কাজে টুথপেস্ট ব্যবহার করা যায়।চলুন তাহলে এক নজরে দেখে নেয়া যাক টুথপেস্ট আমাদেরকী কী কাজে আসছে… • দেয়ালে রঙ লাগলে: দেয়ালে লেগে থাকা হাতের ছাপ, রঙ কিংবা মার্কারের দাগ তুলে ফেলার জন্য সেই দাগে পেস্ট লাগান এবং নরম ব্রাশ দিয়ে ঘষুন, দেখবেন দাগ উঠে যাবে। • কাপড়ের জুতা পরিষ্কার রাখতে: সাদা কাপড়ের জুতা খুব তাড়াতাড়ি ময়লা হয়ে যায়। তাই এটি ঝকঝকে রাখতে পেস্ট লাগিয়ে ব্রাশ দিয়ে ঘষে কিছুক্ষণের জন্য রেখে দিন এবং নরম ভেজা কাপড় দিয়ে মুছে ফেলুন। জুতা নতুন লাগবে দেখতে। • হাত জলে গেলে: রান্না করতে গেলে গরম কিছুর ভাপ লাগলে বা মমের গালা হাতে পরলে পড়া স্থানে সঙ্গে সঙ্গে পেস্ট লাগান, জ্বলা কমে যাবে। • মরিচা দাগ দূর করে: বেসিন বা বাথরুমের মরিচা বা পানির দাগ পরিষ্কার করতে টুথপেস্ট লাগিয়ে একটু জোরে ঘষে নিন। দেখবেন ঝকঝক করছে। • হাতের দুর্গন্ধ দূর করে: হাতের থেকে কাঁচা মাছ-মাংস কিংবা রসুন বা পেঁয়াজের গন্ধ দূর করতে টুথপেস্টে হাতে ঘষে ধুয়ে নিন। গন্ধ চলে যাবে। • ম্যাচের কাঠি জ্বালাতে: ম্যাচের কাঠি পানিতে পড়ে ভিজে গেলে প্রথমে কাপড় দিয়ে কাঠি থেকে পানি শুষে নিন।ম্যাচের মুখে টুথপেস্ট লাগিয়ে কিছুক্ষণ পর মুছে ফেলুন। এরপর স্বাভাবিকভাবে জ্বালান, জ্বলে উঠবে। • স্ক্রেচ দূর করতে: মোবাইল ফোনেরস্ক্রিন কিংবা কাঠের আসবাবপত্রের ওপর স্ক্রেচ পরলে টুথপেস্ট লাগিয়ে মুছে ফেলুন। দেখবেন দাগ হালকা হয়ে গেছে। • কাপড়ের দাগ দূর করতে: কাপড়ের মধ্যে রক্তের দাগ কিংবা চা-কফির দাগ লেগে গেলে দাগের ওপর টুথপেস্ট লাগিয়ে ঘোষুন এবং ধুয়ে ফেলুন। দেখবেন দাগ চলে যাবে। • অলংকার পরিষ্কার করতে: হীরার অলংকার নতুনের মতো ঝকঝকে রাখতে টুথপেস্ট লাগিয়ে নরম ব্রাশ দিয়ে ঘষুন এবং ধুয়ে ফেলুন।
source file : http://bdexpress.uodoo.com
ত্রিদেশীয় সিরিজের ৩ দলের স্কোয়াড ও সময়সূচি
ঢাকা: চলতি মাসের ১৫ জানুয়ারি বাংলাদেশে বসতে যাচ্ছে ত্রিদেশীয় সিরিজ। স্বাগতিক বাংলাদেশের সাথে অপর দুই দল শীলঙ্কা ও জিম্বাবুয়ে। সিরিজটিকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে তিন দলই নিজেদের স্কােয়াড ঘোষণা করেছে। বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিবেন দলনেতা মাশরাফি বিন মুর্তজা, ত্রিদেশীয় সিরিজ দিয়ে শ্রীলঙ্কার একদিনের ফরম্যাটে অধিনায়কত্বে ফিরবেন অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউজ এবং জিম্বাবুয়েকে নেতৃত্ব দিবেন গ্রায়েম ক্রেমার। ঘরের মাঠে খেলা হলেও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ৭ জানুয়ারি ১৬ সদস্যের স্কোয়াড ঘোষণা করে। অন্যদিকে আজ (মঙ্গলবার) ১৬ সদস্যের স্কোয়াড ঘোষণা করেছে শ্রীলঙ্কাও। তবে জিম্বাবুয়ের স্কোয়াডে ছিল ১৫ জন। এক নজরে যেমন হলো তিন দলের স্কোয়াড- বাংলাদেশ স্কোয়াড মাশরাফি বিন মুর্তজা (অধিনায়ক), সাকিব আল হাসান (সহ-অধিনায়ক), তামিম ইকবাল, ইমরুল কায়েস, এনামুল হক বিজয়, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, সাব্বির রহমান, নাসির হোসেন, মোহাম্মদ মিঠুন, মেহেদি হাসান মিরাজ, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, আবুল হাসান রাজু, মুস্তাফিজুর রহমান, রুবেল হোসেন এবং সানজামুল ইসলাম। শ্রীলঙ্কা স্কোয়াড অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউজ (অধিনায়ক), উপুল থারাঙ্গা, দানুসকা গুনাথিলাকা, কুসাল মেন্ডিস, দিনেশ চান্ডিমাল, কুসাল পেরেরা, থিসারা পেরেরা, আসেলা গুনারত্নে, নিরোসান ডিকভেলা, সুরাঙ্গা লাকমাল, নুয়ান প্রদিপ, দাশমান্তথা চামিরা, শেহান মাদুশাঙ্কা, আকিলা ধনাঞ্জয়া, লাকসান সান্দাকান, ওয়িনিন্দু হাসারঙ্গা। জিম্বাবুয়ে স্কোয়াড গ্রায়েম ক্রেমার (অধিনায়ক), হ্যামিল্টন মাসাকাদজা, সলোমন মিরে, ক্রেইগ আরভিন, ব্রেন্ডন টেলর, সিকান্দার রাজা, পিটার মুর, ম্যালকম ওয়ালার, রায়ান মুরে (উইকেটরক্ষক), টেন্ডাই চিসোরো, ব্রেন্ডন মাভুতা, ব্লেসিং মুজারাবানি, ক্রিস্টোফার এমপোফু, টেন্ডাই চাতারা ও কাইল জার্ভিস। ত্রিদেশীয় সিরিজের সময়সূচি- তারিখ দল ভেন্যু ১৫.১.১৮ বাংলাদেশ বনাম জিম্বাবুয়ে শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম ১৭.১.১৮ শ্রীলঙ্কা বনাম জিম্বাবুয়ে শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম ১৯.১.১৮ বাংলাদেশ বনাম শ্রীলঙ্কা শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম ২১.১.১৮ শ্রীলঙ্কা বনাম জিম্বাবুয়ে শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম ২৩.১.১৮ বাংলাদেশ বনাম জিম্বাবুয়ে শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম ২৫.১.১৮ বাংলাদেশ বনাম শ্রীলঙ্কা শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম ২৭.১.১৮ ফাইনাল শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম উল্লেখ্য, ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলতে ১০ জানুয়ারি বাংলাদেশে আসবে জিম্বাবুয়ে। ১৩ তারিখ ঢাকায় পৌঁছাবে শ্রীলঙ্কা দল। তিন দল একে অন্যের বিপক্ষে দুবার করে খেলে শীর্ষ দুই দল যাবে ফাইনালে। ২৭ জানুয়ারির ফাইনালসহ টুর্নামেন্টের সব খেলাই হবে মিরপুরে।
আমি ডাক্তার, আমার কাজ এগুলা করা; জোড় করে বিবস্ত্র করে….
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) চর্ম ও যৌন রোগ বিভাগের চিকিৎসক রিয়াদ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে দ্বাদশ শ্রেণির এক ছাত্রী (১৭)।
গত সোমবার রাজধানীর শাহবাগ থানায় ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে মামলাটি করেন। আজ মঙ্গলবার ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের নারী ও শিশু নির্যাতন দমনের সাধারণ নিবন্ধন শাখায় (জিআর) এই মামলার এজাহার আসে। এমন খবর দিয়েছে এনটিভি অনলাইন।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, কিশোরী ওই ছাত্রীর বাড়ি ভোলা জেলায়। সে চর্মরোগে আক্রান্ত ছিল। গত বছরের ৬ অক্টোবর ভোলার যমুনা মেডিকেল সার্ভিসেসে ডাক্তার রিয়াদ সিদ্দিকীর কাছে ওই ছাত্রী তার চর্মরোগের সমস্যা নিয়ে পরামর্শ নিতে যায়। বিএসএমএমইউর ডাক্তার হলেও রিয়াদ সিদ্দিকী প্রতি শুক্রবার ভোলায় রোগী দেখতেন। ডাক্তার রিয়াদ প্রথম সাক্ষাতের সময় ওই কিশোরীকে বিবস্ত্র করে শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে মলম লাগিয়ে দেন। এ বিষয়ে কিশোরী প্রতিবাদ করলে ডাক্তার রিয়াদ বলেন, ‘আমি তোমার ডাক্তার। আমার কাজ এগুলা করা, আমি এগুলো করব।’ এ বলে ওই চিকিৎসক ছাত্রীর সব স্পর্শকাতর জায়গায় হাত দেন এবং কাউকে কিছু বলতে বারণ করেন। এরপর ছাত্রী লজ্জায় কাউকে কিছু বলেনি।
এরপর গত বছরের ২৯ ডিসেম্বর ওই ছাত্রী পুনরায় চিকিৎসা করাতে ডাক্তার রিয়াদের কাছে যায়। ওই দিন ডাক্তার রিয়াদ আবার জোড় করে বিবস্ত্র করেন এবং যৌন কাজে লিপ্ত হন। ওই ছাত্রী তখন চিৎকার করলে ডাক্তার ওড়না দিয়ে তার মুখ বেঁধে ফেলেন। ছাত্রীকে বিষাক্ত ইনজেকশন দিয়ে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়। এরপর ডাক্তার রিয়াদ ওই ছাত্রীর কিছু গোপনীয় ছবি তুলেন এবং তা ইন্টারনেটে তুলে দেওয়ার হুমকি দেন। সেই সঙ্গে ছাত্রীকে নিয়মিত তার কাছে আসতে বলেন। এরপর ডাক্তার বিভিন্ন সময়ে ওই ছাত্রীর মা-বাবাকে ফোন করে জানান, আপনার মেয়ের মরণব্যাধি রোগ হয়েছে। তাকে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা নিতে হবে। এ ছাড়া ডাক্তার রিয়াদ সিদ্দিকী ওই ছাত্রীর মা-বাবাকে তাদের মেয়েকে বিয়ে করার প্রস্তাব দেন।
গত ৩০ ডিসেম্বর ওই ছাত্রীর মা-বাবাকে ফোন দিয়ে ডাক্তার রিয়াদ বলেন, আপনার মেয়ের চিকিৎসার জন্য বোর্ড বসানো হবে। পরের দিন ৩১ ডিসেম্বর ছাত্রীর মা-বাবা মেয়েকে নিয়ে সকালে ঢাকায় আসেন এবং বিএসএমএমইউ হাসপাতালে এসে পৌঁছান।
এরপর ডাক্তার রিয়াদকে ফোন দিলে ওইদিন সকাল ১০টায় মা-বাবা হাসপাতালের বটগাছের সামনে দেখা করেন এবং বোর্ড বসিয়ে ডাক্তার দেখানো হবে বলে ক্যান্টিনে অপেক্ষা করতে বলেন। ডাক্তার রিয়াদ ওই ছাত্রীকে হাসপাতালের বি ব্লকে এক নির্জন স্থানে নিয়ে যান এবং ধর্ষণ করার চেষ্টা করেন। ওই ছাত্রী কান্নাকাটি করে এবং একপর্যায়ে পালিয়ে যায়। পরে এ ঘটনায় ওই ছাত্রীর বাবা শাহবাগ থানায় মামলা দায়ের করেন।
এ ব্যাপারে বক্তব্য জানতে চিকিৎসক রিয়াদ সিদ্দিকীর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তা বন্ধ পাওয়া গেছে।
Source File : http://bdexpress.uodoo.com
Monday, 25 December 2017
ঘুষ খাওয়া নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যে তোলপাড়
শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদে
আপনারা ঘুষ খান, কিন্তু সহনীয় মাত্রায় খান শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের এ বক্তব্য নিয়ে তোলপাড় চলছে দেশজুড়ে। তীব্র সমালোচনার পাশাপাশি চলছে নানা ধরনের ব্যঙ্গ বিদ্রুপ। মন্ত্রীর এ বক্তব্যে ঘুষ দুর্নীতি আরো ছড়িয়ে পড়বে বলে উদ্বেগ আর হতাশা প্রকাশা করেছেন অনেকে। কেউ কেউ মন্ত্রীর বক্তব্যকে জাতির জন্য ভয়ঙ্কর বার্তা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। জাতির মেরুদণ্ড নির্মাণের দায়িত্ব নিয়োজিত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর কাছ থেকে এ ধরনের বক্তব্যকে গভীর দুঃখজনক হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন প্রবীণ অনেক শিক্ষাবিদ।
ঘুষ খাওয়া নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য গণমাধ্যমে প্রকাশের পরপরই ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিতে থাকেন অনেকে। তাতে তারা ক্ষোভ ও হতাশা ব্যক্ত করার পাশাপাশি ব্যঙ্গ বিদ্রুপসহকারে বিভিন্ন ধরনের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন গতকাল দিনব্যাপী। অফিস, চায়ের আডডায়ও চলে এ নিয়ে তির্যক আলোচনা। তাদের মতে মন্ত্রীর এ বক্তব্যে ঘুষখোররা যেমন উৎসাহিত হবে- তেমনি বাড়বে এর মাত্রা। শিক্ষামন্ত্রী ঘুষকে বৈধতা দিলেন মন্তব্য করে অনেকে ফেসবুকে লিখেছেন ঘুষের সহনীয় মাত্রা কতটুকু তা বললে ভালো হতো। অনেকে লিখেছেন এখন আর দুর্নীতি দমন কমিশন দুদকের প্রয়োজন নেই। মন্ত্রীর এ বক্তব্যের পর দুদক বিলুপ্ত করা উচিত। আরেকজন প্রশ্ন করেছেন, সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন আগের চেয়ে অনেক বাড়ানো হয়েছে। তার পরও সরকারের উচ্চপর্যায়ের একজন মন্ত্রীর পক্ষ থেকে এভাবে সরকারি লোকজনকে ঘুষ খাওয়াকে বৈধতা দান এবং উৎসাহ দেয়া হয় তাহলে আমরা আর কষ্ট করে ট্যাক্স দেবো কেন। আমাদের ট্যাক্সের টাকায় তাদের উচ্চ বেতন দেয়ার পরও যদি তাদের ঘুষ খাওয়া অব্যাহত থাকে তাহলে তাদের বেতন বাড়ানো হলো কেন। এমনকি বেতন বাড়ানোর পর ঘুষ কি পরিমাণ কমেছে সে প্রশ্নও উঠেছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের এমিরিটাস প্রফেসর সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী নয়া দিগন্তকে বলেন, শিক্ষামন্ত্রীর এ বক্তব্য অপ্রত্যাশিত, দুঃখজনক। এতে দুর্নীতিবাজরা আরো উৎসাহিত হবে। মন্ত্রীর দায়িত্ব অনিয়ম প্রতিকার করা। কিন্তু তিনি তার এ বক্তব্যের মাধ্যমে দুর্নীতি মেনে নিলেন। এমনিতেই শিক্ষা খাতের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নানা অভিযোগ রয়েছে, তারপর মন্ত্রীর কাছ থেকে এ ধরনের বক্তব্য আসা উচিত নয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের এমিরিটাস প্রফেসর সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী নয়া দিগন্তকে বলেন, শিক্ষামন্ত্রীর এ বক্তব্য অপ্রত্যাশিত, দুঃখজনক। এতে দুর্নীতিবাজরা আরো উৎসাহিত হবে। মন্ত্রীর দায়িত্ব অনিয়ম প্রতিকার করা। কিন্তু তিনি তার এ বক্তব্যের মাধ্যমে দুর্নীতি মেনে নিলেন। এমনিতেই শিক্ষা খাতের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নানা অভিযোগ রয়েছে, তারপর মন্ত্রীর কাছ থেকে এ ধরনের বক্তব্য আসা উচিত নয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের প্রফেসর ড. আনিসুজ্জামান বলেন, শিক্ষামন্ত্রীর এ বক্তব্য কোনো অবস্থাতেই সমর্থন করা যায় না।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী গতকাল সংবাদ সম্মেলন করে বলেছেন, শিক্ষামন্ত্রী তার বক্তব্যের মাধ্যমে জাতির কাছে এক ভয়ঙ্কর বার্তা পাঠিয়েছেন। জাতির মেরুদণ্ড গঠনের দায়িত্বে বসে তিনি এ ধরনের কথা বলতে পারে না।
কয়েক বছর ধরে ক্রমাগতভাবে প্রশ্নফাঁসসহ নানা কেলেঙ্কারিতে জর্জরিত দেশের শিক্ষা খাত। শিক্ষার মানের ধস বারবার জাতীয় আলোচিত বিষয়ে পরিণত হয়েছে। সমাপনী পরীক্ষা, জেএসসি পরীক্ষা থেকে শুরু করে প্রায় সব পাবলিক পরীক্ষায় ছড়িয়ে পড়েছে অরাজকতা। প্রশ্নফাঁস এতই মহামারী আকার ধারণ করেছে যে, প্রাথমিক ও দ্বিতীয় শ্রেণীর বার্ষিক পরীক্ষায়ও প্রশ্নফাঁসের কারণে শত শত স্কুলে পরীক্ষা স্থগিত করতে হয়েছে। বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফাঁস হওয়া প্রশ্ন ছড়িয়ে পড়া এবং ফাঁস হওয়া প্রশ্নের সাথে পরীক্ষার প্রশ্নের হুবহু মিল থাকার পরও শুরুতে প্রশ্নফাঁস অস্বীকার করেছেন সরকারের উচ্চপর্যায়ের বিভিন্ন ব্যক্তি।
পরে বিভিন্ন সময়ে প্রশ্নফাঁসের ঘটনা স্বীকার করার পর সর্বশেষ শিক্ষামন্ত্রী নাহিদ শিক্ষকদেরই আসল প্রশ্নফাঁসকারী হিসেবে বক্তব্য দেন। এ নিয়ে শিক্ষকদের পক্ষে শুরু হয় উত্তপ্ত সমালোচনা। এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় বারবার জিপিএ ৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের গণহারে অকৃতকার্য হওয়াসহ বিভিন্ন ঘটনায় সমালোচনা চলে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা ও শিক্ষার মান নিয়ে। পাঠ্যবই পরিবর্তন নিয়েও কয়েক বছর ধরে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে বিভিন্ন মহলে। সমাপনী পরীক্ষা, জেএসসি পরীক্ষা ঘিরে শিক্ষার্থী, অভিভাবকেরা বন্দী হয়ে পড়েছেন কোচিং প্রাইভেট ব্যবস্থার কাছে। কোচিং প্রাইভেট নির্ভরতা কমার আশা নিয়ে চালু করা হয়েছিল সৃজনশীল ব্যবস্থা। কিন্তু আজ অবধি বেশির ভাগ শিক্ষকই এটি রপ্ত করতে পারেননি। ঘন ঘন পাবলিক পরীক্ষা, সৃজনশীল, প্রশ্নফাঁসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষকসহ সব মহলে দীর্ঘ দিন ধরে বিরাজ করছে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা। এসব কারণে বারবার সমালোচিত এবং প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।
গত রোববার শিক্ষাভবনে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদফতরের (ডিআইএ) সম্মেলন কক্ষে অধিদফতেরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ল্যাপটপ ও প্রশিক্ষণ সনদ বিতরণ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতা দেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।
বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি বলেন, ‘আপনাদের প্রতি আমার অনুরোধ, আপনারা ঘুষ খান, কিন্তু সহনীয় হয়ে খান। কেননা, আমার এটা বলার সাহসই নেই যে, ঘুষ খাবেন না। তা অর্থহীন হবে।’
প্রায় সবখানেই ঘুষ লেনদেন হচ্ছে দাবি করে মন্ত্রী বলেন, ‘খালি যে অফিসাররা চোর, তা না। মন্ত্রীরাও চোর। আমিও চোর। এ জগতে এমনই চলে আসছে। তবে এ অবস্থার পরিবর্তন করতে হবে।’
প্রায় সবখানেই ঘুষ লেনদেন হচ্ছে দাবি করে মন্ত্রী বলেন, ‘খালি যে অফিসাররা চোর, তা না। মন্ত্রীরাও চোর। আমিও চোর। এ জগতে এমনই চলে আসছে। তবে এ অবস্থার পরিবর্তন করতে হবে।’
২০১৮ সালে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সময় সূচি
বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের ২০১৮ সালের সূচী..
১- ১৫ জানুয়ারি থেকে ত্রিদেশীয় সিরিজ। প্রতিপক্ষ জিম্বাবুয়ে আর শ্রীলংকা।
২- জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি,শ্রীলংকার সাথে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ। সিরিজ হবে দুইটি টেস্ট এবং দুইটি টি-টুয়েন্টির। কোনো ওয়ানডে ম্যাচ নেই।
৩- মার্চ ২০১৮, শ্রীলংকার ৭০ তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে 'নিদাহাস কাপ' হবে বাংলাদেশ,শ্রীলংকা এবং ভারতের মধ্যে। এটা টি-টুয়েন্টি কাপ।
৪- জুলাই ২০১৮.. ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে যাবে বাংলাদেশ। সিরিজে আছে,দুইটি টেস্ট,তিনটি ওডিয়াই এবং একটি টি টুয়েন্টি।
৫- আগস্ট ১৮, বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে কঠিন সিরিজ। অস্ট্রেলিয়ার সাথে এই সিরিজ। দুইটি টেস্ট এবং তিনটি ওয়ানডে থাকবে।
৭- সেপ্টেম্বরে এশিয়া কাপ অনুষ্ঠিত হবে ভারতে। সেপ্টেম্বরের ১৫-৩০ তারিখ পর্যন্ত চলবে এশিয়া কাপ। এবার সবার সাথে কোয়ালিফাই করবে আফগানিস্তান। অন্য দলকে কোয়ালিফাইয়ার খেলে আসতে হবে। হয়তো পাকিস্তান এশিয়া কাপ বর্জন করবে।
৮- অক্টোবর-নভেম্বর ১৮- ফিরতি সিরিজে বাংলাদেশ আসবে উইন্ডিজ বাহিনী। দুইটি টেস্ট,তিনটি ওয়ানডে এবং একটি টি টুয়েন্টি থাকবে।
৯- নভেম্বর-ডিসেম্বর বিপিএলের ষষ্ঠ আসর।
বিঃদ্রঃ এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত কোনো ম্যাচ নেই এফটিপির সূচী অনুযায়ী। হয়তো সেসময় দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলতেও পারে বাংলাদেশ দল।
Friday, 22 December 2017
জাতিসংঘে প্রস্তাব পাসে খুশিতে মাতোয়ারা মুসলিম বিশ্ব
জেরুজালেম ইস্যুতে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় মুসলিম বিশ্ব খুশিতে মাতোয়ারা। ফিলিস্তিনিদের পক্ষাবলম্বনকারী দেশগুলোকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন মুসলিম বিশ্বের নেতারা। রাশিয়া বলেছে, এটা আমেরিকার জন্য বড় পরাজয়। তবে ক্ষোভে উন্মত্ত মার্কিন প্রশাসন এখন কী পদক্ষেপ নেয় তা নিয়ে জল্পনা-কল্পনা চলছে।
বৃহস্পতিবার রাতে ট্রাম্পের প্রস্তাব বাতিল চেয়ে উত্থাপিত প্রস্তাবের পক্ষে ১২৮টি দেশ ভোট দেয়। বিপক্ষে ভোট দেয় মাত্র ৯টি দেশ। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ছাড়া বাকি দেশগুলো কার্যত যুক্তরাষ্ট্রের উপনিবেশ। ভোটদান থেকে বিরত ছিল ৩৫ দেশ। এ প্রস্তাবের আইনি মূল্য কম হলেও প্রতীকী মূল্য ব্যাপক বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন।
ট্রাম্পের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর ওআইসির চেয়ারম্যান এবং তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোগান সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। টুইটারে তিনি বলেছেন, ‘আমরা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বিপুল সমর্থনকে ভীষণ আনন্দের সঙ্গে স্বাগত জানাচ্ছি। আমরা আশা করি, ট্রাম্প প্রশাসন ওই দুর্ভাগ্যজনক সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বাতিল করবে। এটা স্পষ্ট যে, এর কোনো বৈধতা নেই।’ ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস বলেছেন, আমেরিকার মধ্যস্থতা তার দেশ আর মানবে না।
বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে জেরুজালেম নিয়ে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে বেশিরভাগ দেশ। সাহায্য বন্ধে মার্কিন হুমকির তোয়াক্কা না করে এসব দেশ ভোট দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র এখন কী ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে সেটা নিয়ে চলছে আলোচনা। ট্রাম্পপন্থী বহু রাজনীতিবিদ ও সাবেক মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, সহযোগিতা গ্রহণকারী দেশগুলো শাসানো উচিত। তাদের বলা উচিত, এমনটা যেন আর না হয়। কেউ কেউ বলছেন, মার্কিন কর্মকর্তারা যেন বিপক্ষে ভোট দেয়া দেশের নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ বন্ধ করে দেন। তবে কঠিন পদক্ষেপ নেয়ার ব্যাপারে সংশয়ও রয়েছে তাদের মনে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও জাতিসংঘে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালি দু’জনই আর্থিক সহায়তা বন্ধের হুমকি দিয়েছিলেন। সহযোগিতা বন্ধের হুমকি দিয়ে ভোটের আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘তাদের আমরা কোটি কোটি ডলার সহায়তা করি। আর তারা আমাদেরই বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে চায়। ভোট দিক তারা, আমাদের অনেক টাকা বাঁচবে।’
ভোটের আগ মুহূর্তে দেয়া ভাষণে নিকি হ্যালি বলেন, জাতিসংঘ ও এর বিভিন্ন সংস্থায় সবচেয়ে বেশি অর্থ দেয় আমেরিকা। ফলে এ সংস্থায় তাদের চাহিদা বা প্রত্যাশাও বেশি থাকবে। অথচ তার বদলে এখানে যুক্তরাষ্ট্রকে অপমানজনক পরিস্থিতিতে পড়তে হচ্ছে। নিকি হ্যালি বলেন, ‘আমাদের বিনিয়োগের জন্য আরও বেশি চাওয়ার অধিকার রয়েছে। যদি আমাদের বিনিয়োগ ব্যর্থ হয় তাহলে আরও লাভজনক খাতে আমাদের বিনিয়োগ কাজে লাগানোর বাধ্যকতা আছে। যারা এই প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেবে তাদের বিষয়টি মনে রাখা উচিত।’ সাধারণ পরিষদের জরুরি বৈঠকে নিকি হ্যালি অঙ্গীকার করেন, যুক্তরাষ্ট্র জেরুজালেমেই দূতাবাস নিয়ে যাবে। এটাই চায় আমেরিকার মানুষ এবং এটা করা সঠিক। মার্কিন দূত বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তে শান্তি প্রক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার মতো কিছু নেই। যুক্তরাষ্ট্র আজকের এ দিনটি মনে রাখবে। যেদিন জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্র আক্রমণের শিকার হয়েছে। আমরা তখনও এ দিনটি মনে রাখব যখন অনেকে আমাদের কাছে সহযোগিতা চাইতে আসবে, যা তারা প্রায় সময়েই করে থাকে।
হ্যালি ঘোষণা দিয়েছিলেন, যারা যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ভোট দেবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে এখন পর্যন্ত স্পষ্ট নয় যুক্তরাষ্ট্র কেমন পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে। এক মার্কিন সূত্রের বরাতে বার্তা সংস্থা এপি জানায়, ভোটের জন্য দেশগুলোকে ছাড় দেয়া হবে না। বরং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে এর প্রভাব পড়তে পারে। তবে পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র হেদার নরেট বলেছেন, এখনও কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি।
মার্কিন রাজনীতিবিদরা শঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, মিসর ও জর্ডানের মতো মিত্ররাও যেখানে রয়েছে সেখানে কিভাবে এ পদক্ষেপ নেবে যুক্তরাষ্ট্র। রিগান ও বুশ প্রশাসনে শীর্ষ কমকর্তা হিসেবে দায়িত্বপালন করা এলিয়ট আব্রাম বলেন, ওই দেশগুলোতে আর্থিক সহায়তা যুক্তরাষ্ট্রেরই জাতীয় নিরাপত্তা সুরক্ষিত রাখে।
ট্রাম্পের পক্ষে যে কারণে ভোট : জেরুজালেমকে ইসরাইলি দখলদারিত্বের পক্ষে ভোট দেয় ৯টি দেশ। এ ৯ দেশের দুটি হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। অর্থাৎ মাত্র সাতটি দেশ এ ইস্যুতে ট্রাম্পের পাশে ছিল। ওই সাতটি দেশের মধ্যে চারটিই আবার ক্ষুদ্র দ্বীপ রাষ্ট্র। চার দেশের তিনটিই এক সময় যুক্তরাষ্ট্রের উপনিবেশ ছিল। এখনও দ্বিপাক্ষিক চুক্তির মাধ্যমে তারা কার্যত মার্কিন শাসনাধীন। দেশ তিনটি হচ্ছে- মাইক্রোনেশিয়া, পালাউ এবং দ্য মার্শাল আইল্যান্ডস। এর মধ্যে ১০ হাজারের কম জনসংখ্যার দেশও আছ। কোনোটির মানুষ আবার চাইলে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীতেও চাকরি করতে পারেন। ফলে পররাষ্ট্র নীতিতে মার্কিন সিদ্ধান্তের বাইরে যাওয়ার সুযোগ তাদের নেই বললেই চলে। বাকি দেশগুলোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াতেও যুক্তরাষ্ট্রের দেয়া হুমকির প্রভাব ছিল।
ট্রাম্পের প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেয়া এবং ভোটদান থেকে বিরত থাকা দেশগুলোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ভয়ভীতি নিয়ামক হিসেবে কাজ করেছে। ফলে এ দেশগুলোর নাম-পরিচয়ের ব্যাপারে মানুষের আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বৃহস্পতিবার সাধারণ পরিষদের ভোটাভুটিতে জেরুজালেম প্রশ্নে মার্কিন পদক্ষেপকে সমর্থন জানায় গুয়াতেমালা, হন্ডুরাস, পালাই, দ্য মার্শাল আইল্যান্ডস, মাইক্রোনেশিয়া, নাউরু, টোগো, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে বাদ দিলে বাকি সাতটি দেশের মধ্যে চারটি দেশই প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ক্ষুদ্র দ্বীপ রাষ্ট্র।
মার্শাল আইল্যান্ডস প্রশান্ত মহাসাগরের কয়েকটি দ্বীপ নিয়ে গঠিত। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ জারি হয়। বিশ্বব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, এ দ্বীপ রাষ্ট্রটিতে ৫৩ হাজার মানুষের বসবাস। ১৯৮৬ সালে যুক্তরাষ্ট্র থেকে স্বাধীনতা পায় মার্শাল আইল্যান্ডস। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দেশটির করা এক চুক্তিতে ওয়াশিংটনকে মার্শাল আইল্যান্ডসের পররাষ্ট্র নীতির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার ক্ষমতা দেয়া আছে। পালাউ রাষ্ট্রটিও প্রশান্ত মহাসাগরের একগুচ্ছ দ্বীপ নিয়ে গঠিত যা যুক্তরাষ্ট্রের শাসনাধীন ছিল। ১৯৯৪ সালে দেশটি স্বাধীনতা অর্জন করে। তবে এক চুক্তির আওতায় ৫০ বছর ধরে দেশটির প্রতিরক্ষা বিভাগ যুক্তরাষ্ট্রের অধীনে আছে। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর ওয়ার্ল্ড ফ্যাক্টবুকের তথ্য অনুযায়ী, পালাউয়ে ২১ হাজার ৪০০ মানুষের বসবাস। আরেক দ্বীপ রাষ্ট্র মাইক্রোনেশিয়ায় ১ লাখ ৪ হাজার মানুষ বাস করেন। ১৯৮৬ সাল নাউরু যুক্তরাষ্ট্রের অধীনে না থাকলেও ২১ বর্গ কিলোমিটারের এ দেশটিতে বসবাসকারী মানুষের সংখ্যা ১০ হাজারেরও কম।
কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও মেক্সিকোসহ যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র দেশগুলো ভোটদান থেকে বিরত ছিল। আর্জেন্টিনা ও মেক্সিকো এর আগে ফিলিস্তিনের সমর্থনে থাকলেও বৃহস্পতিবার ইসরাইলের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। এমনকি গুয়াতেমালা ও হন্ডুরাসের অবস্থানও একই রকম ছিল। কেনিয়ার মতো উগান্ডা ও দক্ষিণ সুদানের মতো আফ্রিকান দেশগুলোও ভোটদান থেকে বিরত ছিল। মিয়ানমার ও ফিলিপাইনও বিরত ছিল ভোটদান থেকে। ২০১২ সালে তারা ফিলিস্তিনের পক্ষেই ছিল। তবে এশিয়ায় ভারত ও চীন ইসরাইলের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। বিগত কয়েক বছরে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু আফ্রিকা, এশিয়া ও লাতিন আমেরিকার বেশ কিছু দেশে প্রভাব বিস্তার করতে সমর্থ হয়েছে।
আমেরিকার জন্য বড় পরাজয় -রাশিয়া : রাশিয়ার পররাষ্ট্র সম্পর্কবিষয়ক সংসদীয় কমিটির সভাপতি আলেক্সি পুশকোভ বলেছেন, মার্কিন হুমকি সত্ত্বেও জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে জেরুজালেম ইস্যুতে প্রস্তাব পাস হয়েছে। এটা আমেরিকার জন্য বড় পরাজয়।
তিনি শুক্রবার তার টুইটার পেজে লিখেছেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বায়তুল মোকাদ্দাস ও নাৎসিবাদ সংক্রান্ত দুটি প্রস্তাব পাস হয়েছে। দুটি প্রস্তাবেরই বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল আমেরিকা। কিন্তু জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি সদস্য দেশের ভোটে দুটি প্রস্তাবই পাস হয়েছে। আমেরিকা যে বিশ্বে একঘরে হয়েছে এটি তার প্রমাণ। তিনি বলেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে আমেরিকা পরাজিত হয়েছে।
আমেরিকাকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে মানব না -মাহমুদ আব্বাস : ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস বলেছেন, তার দেশ মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রক্রিয়ায় আমেরিকার পক্ষ থেকে নেয়া কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করবে না। একই সঙ্গে তিনি ওয়াশিংটনকে একটি ‘অসৎ মধ্যস্থতাকারী’ পক্ষ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
শুক্রবার প্যারিসে ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে বৈঠকের পর মাহমুদ আব্বাস বলেন, শান্তি প্রক্রিয়ায় আমেরিকা নিজেকে ‘অসৎ মধ্যস্থতাকারী’ হিসেবে প্রমাণ করেছে এবং ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে প্রস্তাবিত কোনো পরিকল্পনা আমরা গ্রহণ করব না।”
প্রেসিডেন্ট ম্যাত্রেঁদ্ধা বলেন, মার্কিনিরা নিজেদের একঘরে করে ফেলছে। তবে এ একই কাজ আমি না করার চেষ্টা করছি।”
সত্য ও ন্যায়ের জয় হয়েছে -হামাস : জাতিসংঘের জরুরি বৈঠকে জেরুজালেম প্রশ্নে ভোটাভুটিতে সত্য, ন্যায় ও ইতিহাসের জয় হয়েছে বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনের মুক্তি আন্দোলনের সংগঠন হামাস। বৃহস্পতিবার ভোটের পর হামাসের প্রধান ইসমাইল হানিয়েহ এ মন্তব্য করেছেন। হামাস প্রধান জানান, জাতিসংঘের এ ভোটে জনগণের আকাক্সক্ষা প্রতিফলিত হয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃত্ব ও রাজনৈতিক ভীতি প্রদর্শন প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। এক বিবৃতিতে হানিয়েহ যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনকে আন্তর্জাতিক ইচ্ছার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে জেরুজালেমকে রাজধানীর স্বীকৃতি প্রত্যাহার করার আহ্বান জানিয়েছেন।
Source file : http://bdexpress.uodoo.com
Subscribe to:
Posts (Atom)



